Search This Blog

Showing posts with label তনু. Show all posts
Showing posts with label তনু. Show all posts

Sunday, June 19, 2011

সুড়ঙ্গপথে দেবী চৌধুরাণী


স্কোয়ামিশ নদীর পথে ঈগল দেখতে
কফি নিয়ে বসলাম কোনার রেস্তোঁরাতে রবিবাররের বিকেলে - এবং সঙ্গে সঙ্গে কল্পনার বসন্তকেও বসান হ’ল কোথাও একটা। অাজ সারাদিন বেরোইনি বাড়ি থেকে - তার প্রধান দুটি কারণ ঃ ক) কাল রাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলায় তিন পৃষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিঠি লেখার মতলবটা বেশি রাতে অাশার ফলে ঘুমেতে যাওয়া ভোর চারটেয় - এবং খ) তারপর সকাল সকাল skype’এ অাড্ডা। ছিল ভারত মহাসাগরের দক্ষিণপশ্চিম কোনে মাদাগাস্কারের পাসের ছোট্ট দ্বীপ মরিশাসের সাময়িক বাসিন্দা পিয়ালি পালিত। ছিল অামেরিকার ফ্লরিডা প্রদেশের থেকে চিরজ্যোতি, এবং ছিল বাঙ্গালুরু থেকে হাজিরা দেওয়া টুকুলেন্দ্রনাথ রায়ঠাকুর।

তাই অাজকের এই মেঘে ঢাকা সন্ধ্যায়, এক কাপ গরম কফি নিয়ে, দোকানের বাইরের ফুটপাথের গায়ে দোকানেরই একটা চেয়ারে বসে, সামনের একহাত গোল টেবিলে নোটবই কম্পুটারটা রেখে দিব্বি বাংলা ভাষায় লিখছি একদিকে ভ্যানকুভারের উত্তরে বসন্তর পাখি দেখতে যাওয়ার গল্প, অাবার অন্যদিকে অাজ থেকে দুশো সাতাস বছর অাগের বাংলা দেশের এক সুড়ঙ্গে - যেখানে মশালের অালোয় সুড়ঙ্গের গায়ে ছায়া কাঁপছে। কখনো মনে হয় মানুষের, অাবার কখনও মনে হয় অবয়বহীন নিকাকার ব্রহ্ম যেন রাক্ষসের রুপে গ্রাস বাস করছেন এই ভয়াবহ সুড়ঙ্গের গভীরে, যার অালো ছায়ার অাবছা মুর্তিহীন রুপ পাথরের ওপর খেলে যাচ্ছে।

টুং করে একটা শব্দ শুনে তাকালাম অাধা অন্ধকারে বড় পাথরের চাইটার পেছন থেকে মাথা তুলে। এই ঘটনাতে অামি নিজে বাকিদের কাছে অশরীরী কিনা, সেটা এখনও ঠিক করতে পারি নি। এটা ঠিক, দেবী চৌধুরাণীর যুগে তনু ছিল না। এবং তনুর বর্তমান জীবনে - দেবী চৌধুরাণীর স্থান নেই ।
-------------
বসন্ত গাড়ি চালাতে চালাতে একঝলক মেরির যিকে তাকালো। এদেশের মেরির সঙ্গে জঙ্গল মহলের মেরি সাঁইয়ের একদিকে যেমন কোনই মিল নেই, অাবার অন্য দিকে যেন দুজনেই একই সত্তা, দুই দেশে, দুই কালে, অালাদা অালাদা  জুবনে একই সঙ্গে বাস করছে। মেরি পাসের সিটে হেলান দিয়ে বসে একটি কাগজের বাটি থেকে মাখনের গন্ধমাখা ভুট্টার খই খাচ্ছিল। ও যা খাচ্ছে তাকে এদেশে তাদের পপকর্ণ বলে। সান গ্লাস চোখে। পায়ের স্নিকারটা খুলে একটা পা সামনের ড্যাসবোর্ডে তুলে ঠ্যাং নাচাচ্ছে রেডিওর গান শুনতে শুনতে। একসময় বসন্তর দিকে তাকিয়ে হাসছিল। বসন্তের মনে পড়ে গেল রবীন্দ্রনাথের নিরুদ্দেশ যাত্রা কবিতাটা - অার কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী? বলো কোন পারে ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।

বাঁদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের এক ফালি সমুদ্র দুই দিকের উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে এঘিয়ে গেছে। রাস্তাটি সমুদ্রকে পাশে রেখে ধীরে ধীরে উঠতে লাগলো ওপর দিকে। ডানদিকে খাড়া পাহাড়ো তার ওপর থেকে বাসের সমান বড় বড় পাথর অনেক সময় গড়িয়ে পড়ে, এবং তলায় কোনো মানুষ বা গাড়ি থাকলে তার অবস্থা কাহিল হবে। কোথাও কোথাও লোহার জাল ঢাকা অাছে পাহাড়ের গায়ে যাতে পড়ন্ত পাথর কোন গাড়িকে না ক্ষতি করে। কোথাও অাবার গাড়ি থামানো নিশেধ - গাড়ি যেন সেখানে চলন্ত থাকে এবং সত কম সময়ে ঐ রাস্তা পেরয় ততই ভাল। সামনেই শানন ঝরনা অাসবে ডান দিকে। স্কোয়ামিশ নদী অাসতে বেশি দেরি নেই। হাইওয়ে নিরানব্বই ধরে বসন্ত চললে একশো দশ স্পিডে পাহাড়ি রাস্তা ধরে উত্তরে। এই রাস্তার অারেকটা নাম দিয়েছে লোকেরা - sea to sky highway। সমুদ্র থেকে অাকাশ - রাস্তাটি সত্তিই সমুদ্র তীর তেকে পাহার বেয়ে উঠতে উঠতে প্রায় অাকাশে নিয়ে যায়।
--------------------
বসন্ত যখন সমুদ্র থেকে পাহাড়ে উঠছে বর্তমানের ক্যানাডাতে, ততক্ষণে অামি দুশো সাতাস বছর অতীতের বাংলার গৃষ্মকালে  গরমে ঘেমে সুড়ঙ্গের এক কোনায় ঝুঁকে পাথরের ঢিবির পেছন থেকে দেখছি সুড়ঙ্গের গভীরে পথ যেন হঠাৎ বেঁকে গেছে ডান দিকে। ভাবছি এখানে অামার থাকা উচিত, না বসন্তের। গুলিয়ে যাচ্ছে কোনটা রচনা ও কোনটা সত্তি।  অালোঅাঁধারের ছায়ার খেলাতে মনে হয় যেন ডান দিকে সুড়ঙ্গ বিভক্ত হয়েছে দুই ভাগে। তার একটা পথ কালো জমাট অন্ধকারে ঢাকা, এবং অন্যটাতে দূরে যেন জোনাকির অালো খেলছে। অামি এটুকু অান্দাজ করেছি যে এরকম সুড়ঙ্গে জোনাকি থাকবেনা। তবে অন্য কোনও পোকা গুহার অন্ধকারে অালোর পুটকি জ্বালাতে পারে কিনা অামি জানতাম না। যেখানে হাঁটু গেড়ে পাথরের ঢিবির পেছনে জায়গা করেছি নিজের, সেখানে সুড়ঙ্গটি চার ফুটের বেশি উঁচু নয়। সোজা হ’য়ে দাঁড়ানো যায়না। পাথরের ফাটল ধরে মাটির তলায় বয়ে জাওয়া মরশুমি জলশ্রোত শত শহস্র বছর ধরে নিজের যাত্রার কথা লিখে গেছে পাথরের গায়ে নুড়ি ও বালির নরুন দিয়ে খোদাই করে। তার অনিশ্চিত স্বতস্ফুর্ততার লক্ষণ সে রেখে গেছে প্রস্তর সুড়ঙ্গের কখনও চওড়া অার কখনও সরু  ফাঁকের অাকৃতিতে।

ঠুং।
শব্দ কানে যেতেই ওমনি চোখ চলে গেল ডান দিকের অন্ধকারে ঢাকা সুড়ঙ্গপথে, যেটাতে মশালে অালো নেই। কিছু একটা হচ্ছে ওখানে। অবার কান পেতে শুনলাম। অাবার একটা শব্দ - কেউ কি খুব অাস্তে কাশলো, নাকি একটা বেজি ফ্যাঁস করে উঠল অন্ধকারে সাপ দেখে ? অাবার কিছুক্ষণ গেল, সাড়াশব্দহীন। অামার চোখ যেন অাস্তে ঢুলে পড়ছিল ঘুমে - তখন অাবার সেই শব্দ - এবার যেন কেউ গোঁঙালো, ব্যাথায়। ঠিক করলাম ওই অন্ধকার গুহার মত সুড়ঙ্গপথের অন্ধকারে অামার যাওয়া দরকার, শব্দের উৎস সন্ধানে। দাঁড়াতে গিয়ে মাথা ঠুকলাম পাথরে। এখানে সোজা হয়ে হাঁটা যাবেনা।

অাবার ঠুং করে শব্দ। শব্দটা ধাতুর। কেউ যেন পেতলের বাটি রাখলো পাথরের ওপর। তবে অাওয়াজটা কোন দিকথেকে এল বুঝলাম না ঠিক মত। অন্ধকার সুড়ঙ্গের পেটের ভেতর অাওয়াজ যেন চার দিকে প্রতিফলিত হ’য়ে এক ভুতুড়ে ঘড়ঘড়ানিতে পরিণত হয়েছে। অামি কান খাড়া করে অাবার শোনবার চেষ্টা করলাম। সুড়ঙ্গের মধ্যে হাওয়া বইছে - কোথা তেকে বা কেন, তা বোঝা জায়না। বাসাতে যেন কিসের একটা গন্ধ - তামাকের, না মশালের, নাকি কেউ রান্না করছে এই সুড়ঙ্গের মধ্যে? অামি কোমর থেকে সামনে বেঁকে, কুঁজো হয়ে, ঐ নিচু সুড়ঙ্গের পথে এগোলাম ডান দিকে। ডান দিয়ে পাথরের গা ছুঁয়ে গেলাম অাঙুল দিয়ে, অন্ধকারে দিকভ্রষ্ট যাতে না হই।বাঁ হাত সামনে বাড়ানো - অন্ধকার ভেদ করে সামনে কিছু অাছে কিনা জানতে। চার পা এগিয়ে থামলাম। মনে হল, সামনে অন্ধকারে কেউ যেন অামার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে পেছোতে গিয়ে হঠাৎ থামলো। অামি যেন অন্ধকারের মধ্যে কল্পচোখে দেখতে পেলুম একজন শার্দুল সমান হাটুঘেড়ে যেন ওত পেতে অাছে অামার দিকে তাকিয়ে, লাফিয়ে অামার ওপর এসে অাক্রমনের অাগের মুহুর্তে। তার চোখ দুটো যেন অালো ছাড়াই জ্বল জ্বল করছে সামনে।

ঘাড়ের পেছনের লোম খাড়া হতে চলেছে এমন অবস্থায় ভয়ের কবলে না পড়ার চেষ্টায় গলা খাঁকারি দিলাম জোরে। কোনও সাড়াশব্দ নেই সামনে থেকে। তবু যেন দেখার বদলে অনুভব করলাম, শার্দুল ডান হাত পেছনে করল - হাতে বল্লম, অামার বুকে তাক করা।

যতখানি স্বাভাবিক অানা যায় গলাতে, বললাম ‘তুমি কি প্রফুল্ল?’
মনশ্চক্ষে দেখলাম তার ভঙ্গি পালটায় নি - বল্লম অামার বুকে লক্ষ করে ধরা। হাটুগেড়ে বসা রমনী। পরনে চিতল হরিনের চামড়ার পান্তলুন, পায়ে চটি, গায়েপাটের সঙ্গে চামড়া সেলাই করা জামা। মাথায় কালো কাপড়ের পাগড়ি। চোখে কাজল, এবং অামার দিকে তাকিয়ে জ্বল জ্বল করছে। মুখে কথা নেই।
“দেবী চৌধুরাণী?”
-------------------------
খ্যাঁচ করে গাড়ি ব্রেক কসায় লোকেরা দুলে গেল। সতেরো শো বিরাশির ভাললার সুড়ঙ্গে হরিনের ছাল পড়া দেবী চৌধুরাণীর জগত থেকে মুহুর্তে এসে পড়লাম বসন্তের জগতে, সে যখন গাড়িটা স্কোয়ামিশ নদীতীরে এসে থামালো। মেরি জুতোয় পা গলিয়ে নেমে গেল গাড়ি থেকে। বসন্ত পেছনের ডিকি খুলে ছোট্ট ব্যাকপ্যাক তুলে নিয়ে নিঝের পিঠে ঝোলালো - তাতে অাছে দুটো ক্যামেরার বডি, চারটে লেন্স, একটা ট্রাইপড, একটা বাইনোকুলার, একটা ন্যাশনাল জিওগ্রাফির পাখির ফিল্ড গাইড, এক বোগল জল অার কিছু চুইং গাম।

গাড়িতে তালাদিয়ে বসন্ত ঘুরে ডাকতে যাচ্ছিল মেরিকে - ধাক্কাধাক্কি লেগে গেল। মেরি যে ওর পেছনেই ওর ঘাড়ের ওপর দিয়ে দেখছিল বসন্তের পাখি দেখার প্রস্তুতি তা বোঝেনি। অপ্রস্তুত হ’য়ে কিছু বলতে যাবে, মেরি তার অাগেই হেসে উঠে একটা কান্ড করে বসলো। একহাতে বসন্তের মাথাটা ধরে টেনে এনে ওর ঠোটে একটা ঞালকা চুমু খেয়ে হাসিভরা চোখে বলল - “shh”। বসন্তের মুখ দিয়ে অার কথাই বেরোলো না।
মেরি অনায়াসে বসন্তের হাত ধরে একরকম টেনেই ওকে নদীর দিকে নিয়ে চললো।
বসন্ত ভেবেছিল ঈগল পাখিদের সম্বন্ধে মেরি কে কিছু বলবে গাড়ি থেকে নেবে - কিন্তু সে কথা অার তার মনে এলনা। 
 
মেরির হাতটা কি নরম!

Saturday, June 18, 2011

লোকে ছড়া লেখে কেন? [১]

লোকে কেন নানারকম কান্ড করে তা বিশ্লেষণ কার সাধ্য - তবে, এটা হ’তো বলা অসঙ্গত হবেনা যে তনুর মত লোকেরা হয়তো ছড়া বানায় - স্রেফ অল্প অানন্দ পাবার জন্য। ক্ষ্যাতি ধন মানের জন্য কবিতা লেখে সুনীল গাঙ্গুলির মতন যারা, তাঁরা। অার রবীন্দ্রনাথ কেন কবিতা লিখেছেন সেদিকে যাচ্ছিই না।

তো - ছড়া লেখা কি তনুশ্রেনীর লোকেদের খালি নির্মল এবং নিরস অানন্দের জন্য? নাকি এখানে কিছু লঘু গুরু রসের স্থানও পাওয়া যায় ? তার বিচার পাঠকরা করবেন। অামি এখানে কিছু কবিতা ওর তার প্রাসঙ্গীক ঘটনার সূত্রপাত উল্লেখ করছি।

একথা বললে হয়তো ভুল হবেনা যে ছোট বেলার ছড়া লেখা, যেমন “বিশ্বজিত মামা, গায়ে ছেঁড়া জামা”, ছেলেবেলাতেই পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাবুইয়ের বিয়ে ও কুকুলের বিয়েতে অামি দুটো লম্বাটে কবিতা লিখেছিলাম।

বর্তমান কালের ছড়া শুরু হয় নেহাতই ইন্টারনেটের সাহাজ্যে নতুন করে গড়ে ওঠা বৃহত্তর বন্ধুগন্ডির মধ্যে অাবার ছোটবেলার সঙ্গীদের খুঁজে পাওয়া এবং মাতৃভাষায় নিজের কথা অভিব্যক্ত করার অানন্দে।


চুল খুলে বসেছিল দিলখোলা পিয়ালি
শাল গাছে মই ছিল, তাল গাছে হঁেয়ালি
কি কপাল করেছিল শ্রীগোপাল গান্ধী
ঢিল মারে লোকজন, কিল মারে ঠানদি

তনু

ওপরের ছড়াটি তেমনিই কিছু বছর অাগে লিখেছিলাম - যখন শান্তিনিকেতনকে অবনতির থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের জোগ দেবার উদ্যোগে তখনকার পশ্চিম বাংলার গভর্নার শ্রী গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ডেকপছিলেন কথা বলতে, রাজভবনে। পিয়ালির কাছে অামন্ত্রন এসেছিল। সেসময়ে বাংলার কমুনিস্ট সরকার গোপাল গান্ধীর ওপর বেশ চটা নানারকম রাজনৈতিক এবং ব্যবস্থামূলক কারনে। ছড়াটা সেই পটভুমিকাকে পেছনে রেখে লেখা।

এইটি দিয়েই যতদূর মনে হয় অামার এই ধরণের ছড়া লেখার সুরু।

শান্তিনিকেতনরে চারপাসের অাবহাওয়া ও প্রকৃতি দুশিত করা বা সেখানে অতিরিক্ত বানিজ্যিকরণের ব্যাপারে লাহা বাঁধের জলাসয়কে বেসরকারি ব্যাবসায়ীর হাতে তুলে দিয়ে সেটা পাচিল দিয়ে ঢেকে টুরিস্টদের বিলাসিতার জন্য রিসর্ট বানানোর প্রতিবাদে যেটা লেখা হয়েছিল, সেটি হল -


লাহা বঁাধে উৎপাত, রাজনীতি, মামলায়
গন্যরা চিতপাত, অন্যরা সামলায়
হাল ছাড়ে হলধর শান্তিনিকেতনে
সরকারি চাকুরির দরকারি বেতনে
গাব গাছে ডাব ছিল, বেলুনেতে ছিদ্র,
এই সব ভাবছিল শান্তনু মিত্র ।

তনু

তন্দ্রা ও শুভাশিষ নিউ ইয়র্ক অঞ্চলে থাকে। তাদের নামে বছর চারেক অাগে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছড়া বানিয়ে প্রদীপের গুগল শান্তিনিেতন বোর্ডে যতদুর মনে হয় তুলেছিলাম পরের ছড়াটি। তন্দ্রা খুব খুশি হয়ে বেছিল এর জবাব ছড়াতেই দেবে। অাজও সেটা পাইনি।


তন্দ্রা ও শুভাশিষ কে

কাটলো বছর চিন্তা বিনা
ভ্যানকুভারে ধিনতা ধিনা
ঘুরছে লোকে গোলকধঁাধায়
অগাধ জলে, কিম্বা কাদায়
বছর শেষে পকেট কঁাচা
গিন্নী যেন হঁাড়িচঁাচা
এই চন্দ্রহারা রাতের কোলে
তন্দ্রাবতীর ছড়ার বোলে
শান্তি এল ক্লান্ত মনে
সুপ্ত হঁাসির গুপ্তধনে

তনুদা






এর পরের দুটি ছড়া একটু রাগ করে, একটু হতাস হয়ে এবং একটু খোঁচানোর চেষ্টায় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন লিখেছিলেন- অাধমরাদের ঘা দিয়ে তুই বাঁচা - সেরকম মনবৃত্তিতে রচিত। মনবৃত্তি যাই হোক, তনুর ক্ষমতার মধ্যে যা এসেছে তাই প্রকাশিত হয় ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে।

শিক্ষকতা


দাড়ি কঁাচা হাঁড়িচাচা বাড়ি বঁাধগোড়াতে
ঝিমতালে নিমতলে ডিম পাড়ে মোড়াতে
ক্লাস ফেলে তাশ খেলে মাস কাটে জমিয়ে
ঘাস কাটে ছাত্ররা পাঠশালা কমিয়ে

তনু



এই তো হল অবস্থা

যুক্তিবিহিন ব্যক্তি কথা - কথার ছলে ব্যাঙের ছাতা
হাত পা ছুড়ে
শঙ্খচূড়ে
চিল্লায় সব গর্ত জুড়ে - স্বল্প বুদ্ধি গোবর মাথা
বুদ্ধিহীনের জীর্ণ মাপে, রাজনীতির ঐ নিম্নচাপে
বন্ধ ঘরে
গন্ধ ছাড়ে
কুসংস্কৃতির অন্ধকারে - ছিন্নমস্তা শুন্যে কঁাপে

তনু


অাজকের মত এখানেই শেষ করলাম। দেখি লেখাটা কেমন লাগছে।
তনু - ১৮-৬-২০১১