Search This Blog

Showing posts with label Santanu Mitra. Show all posts
Showing posts with label Santanu Mitra. Show all posts

Sunday, July 17, 2011

আমার দাদুকে নিয়ে


সোমবার, ১৩ই জুন, ২০১১

কাল সন্ধ্যাবেলা তান লীদদের বাড়ি বসে ওনার power point presentation’টার কাজ এগিয়ে দিচ্ছি, অার তার সঙ্গে লীনাদির সঙ্গে অাড্ডাও চলছিল। “একটি কাহিনীর কাহিনী” বলে যে বাংলা ও ইংরেজি মেশানো ছোট লেখাটা blog’এ তুলেছি, ভুলটুল সুদ্ধ, সেটা ওঁদের খুব পছন্দ। প্রশ্ন উঠলো internet’এ কি কি লেখা যায়, এবং অাগের তুলনায় কত লোকে অাজ অাসল কাগজের দৈনিক বা সাপ্তাহিক পড়ে, অার কত লোক web’এ পড়ে - এই সব।

তান লী দা যে শান্তিনিকেতনের স্নাতকদের মধ্যে একরকম অনন্য, বা তুলনাহীন, এবং কেন সেটা তাৎপর্যপুর্ণ ও  গুরুদেবের চেষ্টার ফলস্বরুপ - এই সব কথা যখন চলছে, তান লী দা চুপচাপ শুনছিলেন এবং তাঁর বাবার ফোটো নাড়াচাড়া করছিলেন। হঠাৎ অামার দিকে তাকিয়ে মনে করিয়ে দিলেন যে, শান্তিনিকেতনের সার্বাঙ্গিক বিকাশের কর্মে অামার দাদু কালীমোহন ঘোষের অবদান কিছু কম নয় - যদিও বেশির ভাগ লোকই তা জানে না। কালীমোহনকে শান্তিনিকেতনে বেশি দেখা যেত না - তিনি শ্রীনিকেতনে এবং গ্রামে গঞ্জে কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তান লী দা দের মত প্রাক্তন ছাত্ররাও তাঁকে খুব কম দেখেছে - হলকর্ষণ, এবং শ্রীনিকেতন মেলা ছাড়া।

কালীমোহন শুধু যে রবীন্দ্রনাথের সমাজ ও পল্লী উন্যয়ন চিন্তাকে রুপান্তরিত করার কাজে যুক্ত ছিলেন তাই নয়, বিভাজিত ও দ্বন্দ্বরত গোষ্ঠী ও উপজাতিতে ভাঙা ভারতীয় সমাজের ভেদাভেদ দূরীকরণের প্রশংসাহীন দুঃসাধ্য কর্মযোজ্ঞে তিনি রবীন্দ্রনাথের সর্ব প্রথম ও একমাত্র মনেপ্রানে অনুগামী কর্মী ছিলেন। ওনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগ শান্তিনিকেতনেরও অাগে, বাংলাদেশে গ্রামোন্যয়ন-চেষ্টার সময় থেকে।

লীনাদির মনে হ’ল ইচ্ছা অাছে অামার সঙ্গে কিছুটা হাত মিলিয়ে একটা লেখার বা গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করতে - শান্তিনিকেতনে কালীমোহন ঘোষের অবদান, এবং তারই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পল্লী সংগঠন চিন্তার নতুন বিশ্লেষণ এবং অাজকের নতুন শতাব্দির সভ্যতার সীমা-অতিক্রম করা জড়বাদী ভোগ, প্রাকৃতিক অবনতি, পার্থিব সম্পদের অতি ব্যবহার সম্পর্কিত  মহাসংকটের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের শতবর্শ অাগের পল্লী উন্নয়ন চেষ্টার চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা - এই সব বিষয় নিয়ে। উনি পিয়ালির সঙ্গেও কথা বলতে চান - যে সব পুঁথি কালীমোহন ঘোষ সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছিলেন অাসপাসের গ্রাম থেকে, ঝুড়ি করে, কত বছর অাগে, তার সম্বন্ধে অারও কিছু জানার।

কি করব ভাবছি - তান লী দা বলছে, অামি না করলে অার কেউ হয়তো নেই অামার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অামার পরিপ্রেক্ষিতে কালীমেহন সম্বন্ধে লেখার। অামি অধ্যয়ন বিষয়ক পণ্ডিত না হলেও, অামার নাকি লেখার একটা স্বাভাবিক দক্ষতা অাছে, এবং অাছে এই বিষয়ে গভীর অাগ্রহ এবং অামার মা ও দাদুর থেকে পাওয়া gene।      সুতরাং অামার উচিত চাকরি বাকরির মধ্যেই এ কাজ শুরু করা, একটু একটু করে।

অামার মা, সুজাতা মিত্র, লেখিকা ছিলেন না। কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত শ্রেয়শী পত্রিকাতে লিখেছিলেন তাঁর পিতা কালীমোহন কে নিয়ে - পারিবারিক ঢাক পেটানোর চেয়ে সব ভুলে যাবার অাগে সত্যপ্রকাশের কালোপযোগী কর্তব্যবোধই তার সংগত কারণ ছিল - তিনি অামাকে বলেছিলেন। তা ছাড়া, কালীমোহন সম্পর্কে লেবু দার (পূর্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায়) বইটি অামি পড়েছি এবং এল্মহার্স্ট’এর লেখাটিও। এ ছাড়া, অামি রবীনদ্রনাথের লেখা প্রবন্ধ, চিঠি এবং বক্তৃতা পড়েছি এবং প্রায়ই পড়ি। রবীন্দনাথের ওপর লেখা বই অনেক অানিয়ে পড়েছি - রানী চন্দ বা বড়মামা শান্তিদেব ঘোষ থেকে নিয়ে অমিয় চক্রবর্তী, এল্মহার্সট, রথেনস্টাইনের চিঠি পত্র, এডওয়ার্ড থমসন, প্রসান্ত চন্দ্র মহালানবিশ, কৃষ্ণ কৃপালিনী, ষ্টিফেন হে,  মেরি লাগো, চার্ল্স এন্ডরুস, হুমায়ুন কবির, নেহরু, রবিনসন ও কৃষ্ণা দত্ত, উমা দাসগুপ্তা, রামচন্দ্র গুহ, ক্যাথলিন ও’কোনেল প্রমুখদের। একেক জন রবীন্দ্রনাথকে একেক ভাবে দেখেছেন, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু রবীনদ্রনাথের সমাজচিন্তা ও গ্রামোন্নয়ন চিন্তা মনে হয় বেশির ভাগ পণ্ডিতেরই তত্ত্বানুসন্ধানগণ্ডির বাইরে ছিল, বা কোনও কারণে তাঁরা এ বিষয়ে অনবহিত বা অনাগ্রহী ছিলেন। অামার অনেক সময় মনে হয়েছে যে, রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তিফলে, নতুন দেশি ও বিদেশি রবীন্দ্রানুরাগীরা হয়তো রবীন্দ্রসঙ্গীত, ও তাঁর কবিতার ও লেখার ওপর বিশেষ প্রাধান্য দেন এবং মনোনিবেশ করেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের পল্লী, সমাজ ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ ও সংস্করণের  গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যময় এবং তখনকার ভারতবর্ষ ও পৃথিবীতে একরকম তুলনাহীন প্রচেষ্টা এই রবীন্দ্রবিশ্লেষকদের কাছে একরকম অলক্ষ, দর্শনাতীত ধাঁধা হয়ে রইল। এটা অামাদের একটা বৃহৎ ক্ষতি ও দুঃখজনক ঘটনা বলে অামার বিশ্বাস। সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে, কালীমোহনের কর্মক্ষেত্র এবং তিনি কতখানি ও কি ভাবে রবীন্দ্রনাথ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তার নতুন  তথ্যানুসন্ধানের কাজ রবীন্দ্রনাথের এই জুগান্তকারী বাস্তবচিন্তা ও উপেক্ষিতা পল্লীপ্রকৃতির সঞ্জীবন ও সংরক্ষণের ওপর নতুন করে অালোকপাত করবে বলে মনে করি। এই কাজে অনুশীলনের প্রয়োজন অাছে বুঝি। সে কাজের জন্য কি তনু উপযুক্ত কিনা, সেটাই প্রশ্ন।

লেখা অামার পেশা নয়, বিশেষ করে বাংলাতে এবং রবীন্দ্রবিষয়ক। তার ওপরে, কালীমেহন নিয়ে লিখতে গেলে হয়তো একটু নিজের ঢাক পেটানোর পর্জায়ে পড়ে যায়, কারন তিনি অামার দাদামশাই হন - মায়ের পিতা। অনেকে অাছেন যাঁরা শান্তিনিকেতন বিশ্লেষণ করেন, ইতিহাস ঘাঁটেন, বই পড়েন ও লেখেন। এঁদের হাতে এসব লেখা মানায়।

তবে, অাজ ওবধি কালীমোহনের ওপর যে সব লেখা অামার চোখে পড়েছে, তার মধ্যে সব চেয়ে ভাল লেগেছে অামার মা সুজাতা মিত্রর লেখাটি। তার কারণ এই নয় যে সুজাতা মিত্রই কালীমোহন সম্পর্কে শেষ কথা বলতে পারেন - বরং কালীমোহনকে নিয়ে যে অারও গবেষণার কাজ অবশিষ্ঠ অাছে, এ হয়তো তারই প্রতিফলন।

লীনা দি’র দৃষ্টিকোনে অাছে রবীন্দ্রনাথের “মহামানব” দর্শানুপাত নিয়ে অারও কাজ করা এবং এর উপাখ্যান অবাঙালির কাছে ও বহির্জগতে প্রচার করা। ওঁর মতে এই দর্শনভাব ও চিন্তাধারা, যা রবীন্দ্রনাথ হয়তো ভারত তথা সারা বিশ্বের মানব সভ্যতার একদিকের অগ্রগতি ও ক্রমবৃদ্ধি এবং অন্যদিকের অর্থগৃধ্নুতা, প্রচণ্ডতা ও অবক্ষয়ের রহস্য সমাধানপ্রশ্নের উত্তরস্বরুপ পেয়েছিলেন, তা বহুমূল্য, এবং অাজকের নতুন সহস্রাব্দে বিশেষ করে যুগোপযোগী বানী। লীনা দি বাংলার চেয়ে হিন্দি ও ইংরিজিতে পারদর্শিনী বেশি, এবং হয়তো বা ভাবছেন যে অামি বাংলাতে লিখি এবং উনি তার হিন্দির দিকটা দেখবেন। ইংরিজি তো সবাই জানে, এবং যে কেউ লিখতে পারে অামাদের মধ্যে।

ওদিকে তীর্থঙ্কর দা ও মন্দাকান্তা দি অনেকদিন থেকে অামাকে বলছেন কালীমোহন ঘোষ সম্বন্ধে লেখা শুরু করতে। কি করি, ভাবছি। তীর্থঙ্করদা তো এও বললেন যে কালীমোহনের সঙ্গে অার্নোল্ড বাকের যোতাযোগ ছিল কিনা, এবং ব্রিটিস লাইব্রেরি বা বিদ্যালয়ে এই বিষয় নিয়ে যোতাযোগ করা যায় কিনা, এই সব বিষয়ে অামাকে উৎসাহ দিয়ে তিনি একাধিকবার অামাকে বলেছেন ও লিখেছেন।

কালীমোহন একবার ডায়েরিতে লিখেছিলেন কেন এগারোই মাঘের ব্রাহ্মসমাজের কলকাতার মিটিংয়ে যাওয়া বন্ধ করলেন অনেক বছর উপস্থিতি জানিয়ে। ওখানে নিরাকার ব্রহ্ম বনাম পুত্তলিকা পূজার সুক্ষ চুলচেরা অনেক তর্ক বিতর্ক পেয়েছেন, কিন্তু মানুষকে খুঁজে পাননি। সেই মানুষের খোঁজে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে কালীমোহন মাঘোৎসবের পথত্যাগ নাকি করেছিলেন এবং ডায়রিতে তার বিবৃতি দিয়ে গেছেন। এই মানবধর্মবোধরোপণ হয়তো অামার দাদামশাইয়ের মনে রবীন্দ্রনাথের অন্যতম প্রধান অবদান। মানবকল্যাণ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে  মোক্ষ লাভই সর্বশ্রেষ্ঠ পথ - এই দীক্ষা তিনি রবীন্দ্রানাথের কাছে পান। রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার অসহ, আক্রমণমূলক, রণলিপ্সু, মাত্রাধিক্য হিংস্রতা দেখে, সভ্যতার অগ্রগামীতা উপলক্ষে মোহমুক্ত হয়ে, বিষণ্ণহৃদয়ে তাঁর জীবনের সর্বশেষ অভিভাষণ সভ্যতার সংকটে তিনি যে গানটি পেশ করেন, “ঐ মহামানব অাসে” তা লঘুরসে রচনা করেননি। সভ্যতার ওপর ভরসা হারালেও মনুষ্যত্যের ওপর বিশ্বাস তাঁর শেষ দিন ওবধি অক্ষীণ ছিল। সেই মনুষ্যত্যের মন্ত্র তিনি শিখিয়েছিলেন কিশোর কালীমোহনকে, যে মন্ত্র কালীমোহনের জীবনে ধ্রুবনক্ষত্রস্বরুপ ছিল।

কালীমোহনের জীবনে লঘুরস অাস্বাদনের সুজোগ বেশি অাসেনি - অাসেনি গ্যালারির দিকে তাকানোর, বা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞ লোকেদের সামনে সংস্কৃতি পেশ করার বা অধ্যাত্মবাদের চুল চেরা বিশ্লেষণ করার। গ্রামে গঞ্জে রাত বিরেতে, রোদে, জলে, কাদায়, ঘেমে, মশার কামড় খেয়ে, মানুষের সঙ্গে মানুষের বিভেদের মোকাবিলা করে, তাদের দৈনন্দিন সমস্যার দীর্ঘজীবি সমাধান খুঁজে, হিন্দু-মুসলমানের ভেদ ও বাঙালি-সাঁওতাল ও অন্যান্য জাতিভেদে মধ্যস্থতা করে, তাদের স্বাস্থ, চাষ, সমাজের বন্ধন ও নিষ্ঠুরতার মোকাবিলার পশ্চাদ্ধাবনে তাঁর দিন কাটতো। সময় পাননি শান্তিনিকেতনের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে মেলামেশা করে সময় কাটানোর ফুরসত পান নি। তিনি  মানবধর্মের  বেদতুল্য মন্ত্র পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে। তা নিয়ে লিখতে গেলে তেমন লেখক কই? লোকে বলে, একজনের সম্বন্ধে লিখতে বা বুঝতে গেলে - one would need to walk in his shoes first। কালীমোহনের ছেঁড়া জুতো পড়ে তাঁর মত বনে বাঁদড়ে ঘুরে ঘুরে স্থানীয় সথ্য সংগ্রহ এবং মৃতকল্প গ্রামগুলির উন্নতিসাধনের জন্য কাল কাটানোর মত লোক কি অার এই প্রজন্মে অাসবে, না এমন লোকদের প্রভাবিত করার জন্য অাবার গুরুদেব অাসবেন ফিরে?

লীনা দি অার তান লী দা বলছেন চেষ্টা করলে লিখতে পারবো।

জানি না।

Monday, July 11, 2011

My thoughts about my grand father.

Monday, July 11, 2011
It has not been comfortable for me to contemplate writing about my grand father. Firstly I did not, and still do not, consider myself really qualified to speak about the life and times of Kalimohan Ghosh, except to reminisce as a relative. But then, he died ten years before I was born, so there is really no question of having any direct memory of him.

But, I remember my mother talking about him. I remember her mentioning with regret, that his children and her brothers, some of whom were well established and accomplished as writers and journalists, and many of them champions and promoters of Rabindranath’s creative vision, did not take it upon themselves to highlight this important and inspirational persons silent work behind the scenes with the downtrodden and the out of site people living in villages surrounding Santiniketan.
It eventually became clear to me, that among all the children of Kalimohan Ghosh, of which seven reached adulthood and one died soon after birth, my mother was the closest to Kalimohan, and felt the loss of him the most. My mother did not consider herself gifted like her brothers, and did not feel qualified enough to write about her father. However, she was eventually driven to write, in absence of her brothers doing so, a lengthy article in the women’s magazine “Sreyashi”, a copy of which she sent to me. That had become one of my important introduction and reference point to my grand father, Kalimohan. Clearly, my mother idolized her dad and at the same time considered him as her true friend, guide and moral pathfinder, and losing him at the tender age of 15 was an indelible scar in her life. Even in her late years my mother often mentioned her father and wished he would guide her with his moral compass through trying times.

That moral compass played a big role in Kalimohan’s life and it left its mark on my mother, who also inherited my grandmother’s stubbornness and willpower. I now understand that my grandfather had acquired most of the strength of his convictions through Rabidnranath Tagore, particularly about the need to eliminate barriers people had erected between themselves in India over centuries and millennia of accumulated dead habit and selfishness. This involved caste barriers among hindus, religious barriers between Hindu, Muslim and other faiths, and ethnic barriers between mainstream Indians and the aboriginals and marginal people. Kalimohan had understood that the “root cause” of the inherent weakness, division and injustice in India, which made it possible for outsiders to rule this grand nation, was established on falsehood, but that the practice was deep rooted and would need enormous effort to eradicate. Lecturing people will not work. Promoting one’s own system and trying to convert others into it will also not do.

There would be a need to set example with their own lives, Tagore’s, Kalimohan’s and everyone else that joins this grand experiment, that they are above the smallness of such barriers. There would be need to rebuild trust between people, trust that had been missing for centuries.

Tagore was like a father figure for Kalimohan, who lost his own father very early in life, and was a rudderless teen when he was tending to fall prey to a violent form of Swadeshi, where one might physically create or support violence against the ruling British Raj, in order to drive them from India. A chance encounter with Rabindranath Tagore, in his thirties at the time, altered Kalimohan’s life. Rabindranath had spoken to him and shown him the real “root cause” because of which it was possible for a handful of Englishmen to exploit India, while Indians enjoyed perhaps a five thousand fold numerical advantage. If this root cause, the social evil that divides people, could be removed, and Indians joined hands with each other, there would really be no need to push the British out. They would go willingly and as a friend would interact thence with India as equal partners in a world of equal humans.

There is another angle that I would like to add here. The work done by my grandfather first in the Tagore estates in todays Bangladesh and later around Santiniketan really are efforts towards economic reorganization of the land, and finding a balance between both man and nature, as well as urban and rural communities. Rabindranath Tagore had realized, through his study of Indian history, philosophy, and study of the west, and applying that knowledge through his analytical mind, that India’s salvation did not lie in either merely aping the west or falling back on the orthodoxy of a divided nation. More profoundly, he had realized that  the real source of all of India’s philosophical and spiritual strength and creative zeal came primarily from a rural environment. The Urban centers  were for creation of material goods and there was a healthy exchange between machined goods from the cities and towns and agricultural produce, goods created by rural artisans as well as social, spiritual and cultural creativity from the rural areas. Quality of life in the past, was different but equal in the urban and rural landscape. This was no more the case, as India had changed to adopt a twisted version of the western economic model, whereby the Urban centers exploit the rural masses, impoverishing them both materially, economically, spiritually and culturally.
There would be a need to correct this imbalance and it was going to be a long and arduous task, requiring a multifaceted effort. There would be a need to re-evaluate our economic roadmap, our vision for the future. New studies in sociology and a deeper understanding of the varied people of this land would be needed. India may have to undertake complete reconstruction of her national economic and cultural infrastructure.

Tagore had realized that for a country that was colonized, this task was not going to be easy and not going to be funded by the Government. Therefore, he tried within his means, and with like minded people, to identify what could be done with limited resources and manpower, that might set a process and an example, showing the way for the future generations.  He knew India was going to be politically free one day, perhaps after he was gone.

To that end, rural reconstruction meant more to Tagore than just making a few roads, setting up a few schools, opening a few medical facilities and showing them better hygiene or ways to realize higher yield for their crop. All that was important. But to Tagore, the underlying need would be for the villages to no more feel underprivileged, and disadvantaged compared to the urban folks. The village life had to be fulfilling enough so that they can feel proud of their lives and have enough affluence so that they can have some leisure in which to engage in nourishing the rich cultural heritage of the nation, adding more folk value into our lives. The villages needed to get their dignity back and the relation between the Urban and the Rural had to be a symbiosis of equals and not one of an exploiter and exploited.
This was a work Tagore had figured would be task of the new generations to accomplish. He had no illusion that this was going to be very very hard to do, and simply copying the west was not enough. One would need all the help it could get, but one would have to find unique solutions, and create new path where none existed. Most importantly, it would need experimentation to see what works and what does not.

He found stalwarts that believed in his vision and came from near and far to join hands, some temporarily and some for their entire lives.

My grandfather, Kalimohan, was converted into this vision as a wayward teenager, and remained the worker behind Tagore’s vision on rural reconstruction till he died. Almost twenty years his junior, Kalimohan died a year before Tagore did, leaving behind a wife, six sons, and a star struck daughter of 15 that lamented his loss for the rest of her life.

Other than my mother, there was one more person that spoke to me often enough about Grand father, and that was my grand mother, Manorama Ghosh. She outlived her husband by some forty years, and spent long hours with me speaking with her when I was in my twenties and thirties. I remember most of those conversations, and intend to jot them down by and by.

Appreciate your comments or suggestions.
Santanu Mitra

Sunday, June 19, 2011

সুড়ঙ্গপথে দেবী চৌধুরাণী


স্কোয়ামিশ নদীর পথে ঈগল দেখতে
কফি নিয়ে বসলাম কোনার রেস্তোঁরাতে রবিবাররের বিকেলে - এবং সঙ্গে সঙ্গে কল্পনার বসন্তকেও বসান হ’ল কোথাও একটা। অাজ সারাদিন বেরোইনি বাড়ি থেকে - তার প্রধান দুটি কারণ ঃ ক) কাল রাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলায় তিন পৃষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিঠি লেখার মতলবটা বেশি রাতে অাশার ফলে ঘুমেতে যাওয়া ভোর চারটেয় - এবং খ) তারপর সকাল সকাল skype’এ অাড্ডা। ছিল ভারত মহাসাগরের দক্ষিণপশ্চিম কোনে মাদাগাস্কারের পাসের ছোট্ট দ্বীপ মরিশাসের সাময়িক বাসিন্দা পিয়ালি পালিত। ছিল অামেরিকার ফ্লরিডা প্রদেশের থেকে চিরজ্যোতি, এবং ছিল বাঙ্গালুরু থেকে হাজিরা দেওয়া টুকুলেন্দ্রনাথ রায়ঠাকুর।

তাই অাজকের এই মেঘে ঢাকা সন্ধ্যায়, এক কাপ গরম কফি নিয়ে, দোকানের বাইরের ফুটপাথের গায়ে দোকানেরই একটা চেয়ারে বসে, সামনের একহাত গোল টেবিলে নোটবই কম্পুটারটা রেখে দিব্বি বাংলা ভাষায় লিখছি একদিকে ভ্যানকুভারের উত্তরে বসন্তর পাখি দেখতে যাওয়ার গল্প, অাবার অন্যদিকে অাজ থেকে দুশো সাতাস বছর অাগের বাংলা দেশের এক সুড়ঙ্গে - যেখানে মশালের অালোয় সুড়ঙ্গের গায়ে ছায়া কাঁপছে। কখনো মনে হয় মানুষের, অাবার কখনও মনে হয় অবয়বহীন নিকাকার ব্রহ্ম যেন রাক্ষসের রুপে গ্রাস বাস করছেন এই ভয়াবহ সুড়ঙ্গের গভীরে, যার অালো ছায়ার অাবছা মুর্তিহীন রুপ পাথরের ওপর খেলে যাচ্ছে।

টুং করে একটা শব্দ শুনে তাকালাম অাধা অন্ধকারে বড় পাথরের চাইটার পেছন থেকে মাথা তুলে। এই ঘটনাতে অামি নিজে বাকিদের কাছে অশরীরী কিনা, সেটা এখনও ঠিক করতে পারি নি। এটা ঠিক, দেবী চৌধুরাণীর যুগে তনু ছিল না। এবং তনুর বর্তমান জীবনে - দেবী চৌধুরাণীর স্থান নেই ।
-------------
বসন্ত গাড়ি চালাতে চালাতে একঝলক মেরির যিকে তাকালো। এদেশের মেরির সঙ্গে জঙ্গল মহলের মেরি সাঁইয়ের একদিকে যেমন কোনই মিল নেই, অাবার অন্য দিকে যেন দুজনেই একই সত্তা, দুই দেশে, দুই কালে, অালাদা অালাদা  জুবনে একই সঙ্গে বাস করছে। মেরি পাসের সিটে হেলান দিয়ে বসে একটি কাগজের বাটি থেকে মাখনের গন্ধমাখা ভুট্টার খই খাচ্ছিল। ও যা খাচ্ছে তাকে এদেশে তাদের পপকর্ণ বলে। সান গ্লাস চোখে। পায়ের স্নিকারটা খুলে একটা পা সামনের ড্যাসবোর্ডে তুলে ঠ্যাং নাচাচ্ছে রেডিওর গান শুনতে শুনতে। একসময় বসন্তর দিকে তাকিয়ে হাসছিল। বসন্তের মনে পড়ে গেল রবীন্দ্রনাথের নিরুদ্দেশ যাত্রা কবিতাটা - অার কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী? বলো কোন পারে ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।

বাঁদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের এক ফালি সমুদ্র দুই দিকের উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে এঘিয়ে গেছে। রাস্তাটি সমুদ্রকে পাশে রেখে ধীরে ধীরে উঠতে লাগলো ওপর দিকে। ডানদিকে খাড়া পাহাড়ো তার ওপর থেকে বাসের সমান বড় বড় পাথর অনেক সময় গড়িয়ে পড়ে, এবং তলায় কোনো মানুষ বা গাড়ি থাকলে তার অবস্থা কাহিল হবে। কোথাও কোথাও লোহার জাল ঢাকা অাছে পাহাড়ের গায়ে যাতে পড়ন্ত পাথর কোন গাড়িকে না ক্ষতি করে। কোথাও অাবার গাড়ি থামানো নিশেধ - গাড়ি যেন সেখানে চলন্ত থাকে এবং সত কম সময়ে ঐ রাস্তা পেরয় ততই ভাল। সামনেই শানন ঝরনা অাসবে ডান দিকে। স্কোয়ামিশ নদী অাসতে বেশি দেরি নেই। হাইওয়ে নিরানব্বই ধরে বসন্ত চললে একশো দশ স্পিডে পাহাড়ি রাস্তা ধরে উত্তরে। এই রাস্তার অারেকটা নাম দিয়েছে লোকেরা - sea to sky highway। সমুদ্র থেকে অাকাশ - রাস্তাটি সত্তিই সমুদ্র তীর তেকে পাহার বেয়ে উঠতে উঠতে প্রায় অাকাশে নিয়ে যায়।
--------------------
বসন্ত যখন সমুদ্র থেকে পাহাড়ে উঠছে বর্তমানের ক্যানাডাতে, ততক্ষণে অামি দুশো সাতাস বছর অতীতের বাংলার গৃষ্মকালে  গরমে ঘেমে সুড়ঙ্গের এক কোনায় ঝুঁকে পাথরের ঢিবির পেছন থেকে দেখছি সুড়ঙ্গের গভীরে পথ যেন হঠাৎ বেঁকে গেছে ডান দিকে। ভাবছি এখানে অামার থাকা উচিত, না বসন্তের। গুলিয়ে যাচ্ছে কোনটা রচনা ও কোনটা সত্তি।  অালোঅাঁধারের ছায়ার খেলাতে মনে হয় যেন ডান দিকে সুড়ঙ্গ বিভক্ত হয়েছে দুই ভাগে। তার একটা পথ কালো জমাট অন্ধকারে ঢাকা, এবং অন্যটাতে দূরে যেন জোনাকির অালো খেলছে। অামি এটুকু অান্দাজ করেছি যে এরকম সুড়ঙ্গে জোনাকি থাকবেনা। তবে অন্য কোনও পোকা গুহার অন্ধকারে অালোর পুটকি জ্বালাতে পারে কিনা অামি জানতাম না। যেখানে হাঁটু গেড়ে পাথরের ঢিবির পেছনে জায়গা করেছি নিজের, সেখানে সুড়ঙ্গটি চার ফুটের বেশি উঁচু নয়। সোজা হ’য়ে দাঁড়ানো যায়না। পাথরের ফাটল ধরে মাটির তলায় বয়ে জাওয়া মরশুমি জলশ্রোত শত শহস্র বছর ধরে নিজের যাত্রার কথা লিখে গেছে পাথরের গায়ে নুড়ি ও বালির নরুন দিয়ে খোদাই করে। তার অনিশ্চিত স্বতস্ফুর্ততার লক্ষণ সে রেখে গেছে প্রস্তর সুড়ঙ্গের কখনও চওড়া অার কখনও সরু  ফাঁকের অাকৃতিতে।

ঠুং।
শব্দ কানে যেতেই ওমনি চোখ চলে গেল ডান দিকের অন্ধকারে ঢাকা সুড়ঙ্গপথে, যেটাতে মশালে অালো নেই। কিছু একটা হচ্ছে ওখানে। অবার কান পেতে শুনলাম। অাবার একটা শব্দ - কেউ কি খুব অাস্তে কাশলো, নাকি একটা বেজি ফ্যাঁস করে উঠল অন্ধকারে সাপ দেখে ? অাবার কিছুক্ষণ গেল, সাড়াশব্দহীন। অামার চোখ যেন অাস্তে ঢুলে পড়ছিল ঘুমে - তখন অাবার সেই শব্দ - এবার যেন কেউ গোঁঙালো, ব্যাথায়। ঠিক করলাম ওই অন্ধকার গুহার মত সুড়ঙ্গপথের অন্ধকারে অামার যাওয়া দরকার, শব্দের উৎস সন্ধানে। দাঁড়াতে গিয়ে মাথা ঠুকলাম পাথরে। এখানে সোজা হয়ে হাঁটা যাবেনা।

অাবার ঠুং করে শব্দ। শব্দটা ধাতুর। কেউ যেন পেতলের বাটি রাখলো পাথরের ওপর। তবে অাওয়াজটা কোন দিকথেকে এল বুঝলাম না ঠিক মত। অন্ধকার সুড়ঙ্গের পেটের ভেতর অাওয়াজ যেন চার দিকে প্রতিফলিত হ’য়ে এক ভুতুড়ে ঘড়ঘড়ানিতে পরিণত হয়েছে। অামি কান খাড়া করে অাবার শোনবার চেষ্টা করলাম। সুড়ঙ্গের মধ্যে হাওয়া বইছে - কোথা তেকে বা কেন, তা বোঝা জায়না। বাসাতে যেন কিসের একটা গন্ধ - তামাকের, না মশালের, নাকি কেউ রান্না করছে এই সুড়ঙ্গের মধ্যে? অামি কোমর থেকে সামনে বেঁকে, কুঁজো হয়ে, ঐ নিচু সুড়ঙ্গের পথে এগোলাম ডান দিকে। ডান দিয়ে পাথরের গা ছুঁয়ে গেলাম অাঙুল দিয়ে, অন্ধকারে দিকভ্রষ্ট যাতে না হই।বাঁ হাত সামনে বাড়ানো - অন্ধকার ভেদ করে সামনে কিছু অাছে কিনা জানতে। চার পা এগিয়ে থামলাম। মনে হল, সামনে অন্ধকারে কেউ যেন অামার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে পেছোতে গিয়ে হঠাৎ থামলো। অামি যেন অন্ধকারের মধ্যে কল্পচোখে দেখতে পেলুম একজন শার্দুল সমান হাটুঘেড়ে যেন ওত পেতে অাছে অামার দিকে তাকিয়ে, লাফিয়ে অামার ওপর এসে অাক্রমনের অাগের মুহুর্তে। তার চোখ দুটো যেন অালো ছাড়াই জ্বল জ্বল করছে সামনে।

ঘাড়ের পেছনের লোম খাড়া হতে চলেছে এমন অবস্থায় ভয়ের কবলে না পড়ার চেষ্টায় গলা খাঁকারি দিলাম জোরে। কোনও সাড়াশব্দ নেই সামনে থেকে। তবু যেন দেখার বদলে অনুভব করলাম, শার্দুল ডান হাত পেছনে করল - হাতে বল্লম, অামার বুকে তাক করা।

যতখানি স্বাভাবিক অানা যায় গলাতে, বললাম ‘তুমি কি প্রফুল্ল?’
মনশ্চক্ষে দেখলাম তার ভঙ্গি পালটায় নি - বল্লম অামার বুকে লক্ষ করে ধরা। হাটুগেড়ে বসা রমনী। পরনে চিতল হরিনের চামড়ার পান্তলুন, পায়ে চটি, গায়েপাটের সঙ্গে চামড়া সেলাই করা জামা। মাথায় কালো কাপড়ের পাগড়ি। চোখে কাজল, এবং অামার দিকে তাকিয়ে জ্বল জ্বল করছে। মুখে কথা নেই।
“দেবী চৌধুরাণী?”
-------------------------
খ্যাঁচ করে গাড়ি ব্রেক কসায় লোকেরা দুলে গেল। সতেরো শো বিরাশির ভাললার সুড়ঙ্গে হরিনের ছাল পড়া দেবী চৌধুরাণীর জগত থেকে মুহুর্তে এসে পড়লাম বসন্তের জগতে, সে যখন গাড়িটা স্কোয়ামিশ নদীতীরে এসে থামালো। মেরি জুতোয় পা গলিয়ে নেমে গেল গাড়ি থেকে। বসন্ত পেছনের ডিকি খুলে ছোট্ট ব্যাকপ্যাক তুলে নিয়ে নিঝের পিঠে ঝোলালো - তাতে অাছে দুটো ক্যামেরার বডি, চারটে লেন্স, একটা ট্রাইপড, একটা বাইনোকুলার, একটা ন্যাশনাল জিওগ্রাফির পাখির ফিল্ড গাইড, এক বোগল জল অার কিছু চুইং গাম।

গাড়িতে তালাদিয়ে বসন্ত ঘুরে ডাকতে যাচ্ছিল মেরিকে - ধাক্কাধাক্কি লেগে গেল। মেরি যে ওর পেছনেই ওর ঘাড়ের ওপর দিয়ে দেখছিল বসন্তের পাখি দেখার প্রস্তুতি তা বোঝেনি। অপ্রস্তুত হ’য়ে কিছু বলতে যাবে, মেরি তার অাগেই হেসে উঠে একটা কান্ড করে বসলো। একহাতে বসন্তের মাথাটা ধরে টেনে এনে ওর ঠোটে একটা ঞালকা চুমু খেয়ে হাসিভরা চোখে বলল - “shh”। বসন্তের মুখ দিয়ে অার কথাই বেরোলো না।
মেরি অনায়াসে বসন্তের হাত ধরে একরকম টেনেই ওকে নদীর দিকে নিয়ে চললো।
বসন্ত ভেবেছিল ঈগল পাখিদের সম্বন্ধে মেরি কে কিছু বলবে গাড়ি থেকে নেবে - কিন্তু সে কথা অার তার মনে এলনা। 
 
মেরির হাতটা কি নরম!

Saturday, June 18, 2011

লোকে ছড়া লেখে কেন? [১]

লোকে কেন নানারকম কান্ড করে তা বিশ্লেষণ কার সাধ্য - তবে, এটা হ’তো বলা অসঙ্গত হবেনা যে তনুর মত লোকেরা হয়তো ছড়া বানায় - স্রেফ অল্প অানন্দ পাবার জন্য। ক্ষ্যাতি ধন মানের জন্য কবিতা লেখে সুনীল গাঙ্গুলির মতন যারা, তাঁরা। অার রবীন্দ্রনাথ কেন কবিতা লিখেছেন সেদিকে যাচ্ছিই না।

তো - ছড়া লেখা কি তনুশ্রেনীর লোকেদের খালি নির্মল এবং নিরস অানন্দের জন্য? নাকি এখানে কিছু লঘু গুরু রসের স্থানও পাওয়া যায় ? তার বিচার পাঠকরা করবেন। অামি এখানে কিছু কবিতা ওর তার প্রাসঙ্গীক ঘটনার সূত্রপাত উল্লেখ করছি।

একথা বললে হয়তো ভুল হবেনা যে ছোট বেলার ছড়া লেখা, যেমন “বিশ্বজিত মামা, গায়ে ছেঁড়া জামা”, ছেলেবেলাতেই পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাবুইয়ের বিয়ে ও কুকুলের বিয়েতে অামি দুটো লম্বাটে কবিতা লিখেছিলাম।

বর্তমান কালের ছড়া শুরু হয় নেহাতই ইন্টারনেটের সাহাজ্যে নতুন করে গড়ে ওঠা বৃহত্তর বন্ধুগন্ডির মধ্যে অাবার ছোটবেলার সঙ্গীদের খুঁজে পাওয়া এবং মাতৃভাষায় নিজের কথা অভিব্যক্ত করার অানন্দে।


চুল খুলে বসেছিল দিলখোলা পিয়ালি
শাল গাছে মই ছিল, তাল গাছে হঁেয়ালি
কি কপাল করেছিল শ্রীগোপাল গান্ধী
ঢিল মারে লোকজন, কিল মারে ঠানদি

তনু

ওপরের ছড়াটি তেমনিই কিছু বছর অাগে লিখেছিলাম - যখন শান্তিনিকেতনকে অবনতির থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের জোগ দেবার উদ্যোগে তখনকার পশ্চিম বাংলার গভর্নার শ্রী গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ডেকপছিলেন কথা বলতে, রাজভবনে। পিয়ালির কাছে অামন্ত্রন এসেছিল। সেসময়ে বাংলার কমুনিস্ট সরকার গোপাল গান্ধীর ওপর বেশ চটা নানারকম রাজনৈতিক এবং ব্যবস্থামূলক কারনে। ছড়াটা সেই পটভুমিকাকে পেছনে রেখে লেখা।

এইটি দিয়েই যতদূর মনে হয় অামার এই ধরণের ছড়া লেখার সুরু।

শান্তিনিকেতনরে চারপাসের অাবহাওয়া ও প্রকৃতি দুশিত করা বা সেখানে অতিরিক্ত বানিজ্যিকরণের ব্যাপারে লাহা বাঁধের জলাসয়কে বেসরকারি ব্যাবসায়ীর হাতে তুলে দিয়ে সেটা পাচিল দিয়ে ঢেকে টুরিস্টদের বিলাসিতার জন্য রিসর্ট বানানোর প্রতিবাদে যেটা লেখা হয়েছিল, সেটি হল -


লাহা বঁাধে উৎপাত, রাজনীতি, মামলায়
গন্যরা চিতপাত, অন্যরা সামলায়
হাল ছাড়ে হলধর শান্তিনিকেতনে
সরকারি চাকুরির দরকারি বেতনে
গাব গাছে ডাব ছিল, বেলুনেতে ছিদ্র,
এই সব ভাবছিল শান্তনু মিত্র ।

তনু

তন্দ্রা ও শুভাশিষ নিউ ইয়র্ক অঞ্চলে থাকে। তাদের নামে বছর চারেক অাগে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছড়া বানিয়ে প্রদীপের গুগল শান্তিনিেতন বোর্ডে যতদুর মনে হয় তুলেছিলাম পরের ছড়াটি। তন্দ্রা খুব খুশি হয়ে বেছিল এর জবাব ছড়াতেই দেবে। অাজও সেটা পাইনি।


তন্দ্রা ও শুভাশিষ কে

কাটলো বছর চিন্তা বিনা
ভ্যানকুভারে ধিনতা ধিনা
ঘুরছে লোকে গোলকধঁাধায়
অগাধ জলে, কিম্বা কাদায়
বছর শেষে পকেট কঁাচা
গিন্নী যেন হঁাড়িচঁাচা
এই চন্দ্রহারা রাতের কোলে
তন্দ্রাবতীর ছড়ার বোলে
শান্তি এল ক্লান্ত মনে
সুপ্ত হঁাসির গুপ্তধনে

তনুদা






এর পরের দুটি ছড়া একটু রাগ করে, একটু হতাস হয়ে এবং একটু খোঁচানোর চেষ্টায় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন লিখেছিলেন- অাধমরাদের ঘা দিয়ে তুই বাঁচা - সেরকম মনবৃত্তিতে রচিত। মনবৃত্তি যাই হোক, তনুর ক্ষমতার মধ্যে যা এসেছে তাই প্রকাশিত হয় ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে।

শিক্ষকতা


দাড়ি কঁাচা হাঁড়িচাচা বাড়ি বঁাধগোড়াতে
ঝিমতালে নিমতলে ডিম পাড়ে মোড়াতে
ক্লাস ফেলে তাশ খেলে মাস কাটে জমিয়ে
ঘাস কাটে ছাত্ররা পাঠশালা কমিয়ে

তনু



এই তো হল অবস্থা

যুক্তিবিহিন ব্যক্তি কথা - কথার ছলে ব্যাঙের ছাতা
হাত পা ছুড়ে
শঙ্খচূড়ে
চিল্লায় সব গর্ত জুড়ে - স্বল্প বুদ্ধি গোবর মাথা
বুদ্ধিহীনের জীর্ণ মাপে, রাজনীতির ঐ নিম্নচাপে
বন্ধ ঘরে
গন্ধ ছাড়ে
কুসংস্কৃতির অন্ধকারে - ছিন্নমস্তা শুন্যে কঁাপে

তনু


অাজকের মত এখানেই শেষ করলাম। দেখি লেখাটা কেমন লাগছে।
তনু - ১৮-৬-২০১১