Search This Blog

Showing posts with label Tan Lee. Show all posts
Showing posts with label Tan Lee. Show all posts

Wednesday, August 3, 2011

সব কি ইংরিজিতে না লিখলেই নয় ?


নমষ্কার। শুরু করেছিলাম ব্লগ লেখা জুন মাসের শেষের যিকে, এবং উতসাহ প্রথমে যায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহ এবং দেবী চৌধুরানীর দিকে। কিন্তু এই দেড় মাসে লেখার মোড় অনেকবার ঘুরেছে। পাঠকরা বলবেন আমার লেখাতে সামঞ্জস্যের অভাব - এবং ঠিকই বলবেন।

তবে যে কঝন মোটামুটি মন দিয়ে পড়েছেন কিছু কিছু ব্লগের লেখা, তাঁরা হয়তো একটি প্রবণতা বা ট্রেন্ড দেখতে পাবেন - যেমন ক্রমশ বাংলাতে লেখার ঝোঁক দেখা যায়, এবং তারই সঙ্গে বাংলার বাক্য প্রয়োগে কিছুটা স্বচ্ছলতা অাসছে অভ্যেস বসতঃ। আরেকটি প্রবণতা হল - অতিতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানের দিকে এবং ভবিষ্যতের কথা বলারও সমান ইচ্ছে। আাবার এও কেউ কেউ বলবেন হয়তো, যে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার মত, ঘুরে ফিরেই রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে এবং তারই সঙ্গে বিশ্বভারতীর াতিত-ভবিষ্যত চিন্তা আমার মনে এবং কলমে (keyboard’এ বলাটা আরও সঙ্গত হবে) চলে আসছে।

By Sukhamoy Mitra
কিন্তু আজকের লেখার ইন্ধনটা এসেছে লীনা দি ও পিয়ালির নিরীক্ষা থেকে - ইংরিজিতে লিখবো না বাংলাতে, সেই বিষয়ে। লিখেছিলাম বিশ্বভারতীর আগামী উপাচার্য নির্বাচন নিয়ে। তারই সঙ্গে আমরা প্রাক্তনীরা, যারা দুই তিন প্রজন্ম বিশেষ কিছুই করিনি বিশ্বভারতীর পুনরূজ্জীবন-চেষ্টায়, তাদের কি এই বিলম্বিত লয়ে এই উপেক্ষিত শুভকাজে যোগ দেবার সম্ভাবনা আছে কিনা - এই চিন্তা মাথায় এসেছিল। সেই চিন্তা ফুটেছিল, আমারই অদ্ভুত ও বিশেষ রচনাভঙ্গিতে - বাংলায়। মাথায় যে সব সময় সব চিন্তা গুছিয়ে গুরু থেকে লঘুপদ ক্রমানুশারে আসে, তা নয়। এবং সব ধারণাই যে ঠিক, তাঔ নিশ্চই নয় - কিন্তু তাও, যেমন মাথায় এসেছে, তেমনি লিখে ফেলেছি এবং তুলে দিয়েছি সবাই চাইলে দেখতে পায় এমন স্থানে - গুগল ব্লগে।

সেটা পড়েই লীনা দি বলেছিলেন, তান লী দাও, এটা ইংরিজিতে অনুবাদ করলে ভাল হয়, অনেক বেশি লোকে পড়তে পারবে। আমি ইংরিজিতে অনুবাদ করে দিয়েছি, এই লেখার আগেরটাই। কিন্তু তারই সঙ্গে লীনাদিদের এটাও প্রশ্ন করেছিলাম - কি হবে ইংরিজিতে লিখে, বেশি লোককে দেখিয়ে। পরে, তা নিয়ে ফেসবুকের পাতাতেও আমার মন্তব্য লিখেছিলাম। আজ ভাবছি তাই নিয়েই এখানে লিখবো।

ইংরিজিতে আমরা কেন লিখি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, বাংলা সংস্কৃতিকে নিয়ে, বিশ্বভারতীকে নিয় - এটা আমার আজকের প্রশ্ন। কি দরকার আছে রবীন্দ্রনাথের সমাচিন্তা, যা বেশির ভাগই সখনকার বৃহত্তর বাংলাদেশকে নিয়ে লেখা, এবং ততকালীন অখণ্ড ভারতবর্ষকে নিয়ে লেখা। তিনি পাশ্চাত্যের সভ্যতার ওপর, বিশেষ করে তাদের  একদিকে স্বাদীনতা, গনতন্ত্র ও সাম্যবাদ নিয়ে দম্ভ এবং তারই সঙ্গে নিষ্ঠুর সাম্রাজ্যবাদ ও দূরদেের লোকেদের শোষণের পরস্পরবিরোধী প্রকাশ ও বিশ্বযুদ্ধ দেখে সভ্যতার ওপর আস্থা হারিয়েছিলেন - এবং সভ্যতা সংকট নিয়ে লিখেছিলেন। কিন্তু তা হলেও, উনি যতদূর জানি তাঁর সমাজ উন্নয়ন ও অাদর্শ শিক্ষার ভাবনা চিন্তা অখণ্ড ভারতবর্ষ সম্বন্ধেই ছিল। সুতরাং আমার প্রশ্নটা বার বার মনে আসে - সে বিষয়ে আজ যদি লিখতে চাই, কেন ইংরিজিতে লেখা দরকার ?

পাটক বলতে পারেন, রবীন্দ্রনাথতো নিজেও এসব নিয়ে প্রায়ই ইংরিজিতে লিখেছেন। কিন্তু সেই যুক্তি কি আমার বেলা খাটে? আমরা জানি রবীন্দ্রনাথকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বার বার দৌড়তে হয়েছে এখানে সেখানে, লিখতে, বক্তৃতা দিতে, টাকা তুলতে। তখনকার দিনে টাকা তোলার কয়েকটিই উপায় ছিল - দেশে রাজা রাজড়াদের ধরা, এবং ইংলণ্ড, আমেরিকাতে ইংরিজিতে ভাষণ দেওয়া এবং লেখা পেশ করা। সেই টাকা দিয়ে শান্তিনিকেতনের মত প্রতিষ্ঠান চালানো।

বর্তমানে, শান্তিনিকেতন চালানোর ভার ভারত সরকারের। সে আমাদের টাকার জন্য অপেক্ষা করছেনা। আমরা যদি নানা বিদেশি বিদ্যালয়ে গিয়ে বক্তৃতা দিই, এবং তার জন্য এক, পাঁচ বা দশ হাজার ডলার নিই এক ঘণ্টা কথা কথা বলার জন্য, সে টাকা আমরা সাধারণতঃ পকেটস্থ করি।

সুতরাং এটা কি বলা যায় যে - আজ রবীন্্রনাথের বিষয়ে ইংরিজিতে লেখার অন্যতম প্রধান ুদ্দেশ্য হল যে লেখক তার নিজের উপার্জন ও খ্যাতি কামনা ?

লীনা দি বলেন যে রবীন্দ্রনাথকে বিদশীরা তেমন চেনেনা, এবং আমাদের কর্তব্য হল তাঁর কথা বিদেশে প্রচার করা,  এবং টাকা পয়সা উপার্জনের চেষ্টা ছাড়াও, নিঃস্বার্থ ভাবে তা করা। লীনাদির যুক্তিটা বুঝি, কিন্তু তা হলেও পুরোপুরি মন থেকে মানতে অসুবিধা হয়। সাধারণতই আমার মনটা কিছুটা বিতর্কমূলক এবং কিছুটা বৈশ্লেষিক। কোনও উপদেশই অন্ধবৎ হজম করাটা স্বভাবে নেই। খুঁটিয়ে বিচার করাটা একটা বদভ্যেস বলা যায়।

প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে - shakespeare যে কত ভাল ভাল সাহিত্য রচনা করেছেন ইংরিজিতে। কই ইংরেজরাতো বাংলা বা হিন্দি শিখে তাঁর সাহিত্যের মর্জাদা আমাদের মাতৃভাষায় প্রমান করতে প্রাণপাত করছেননা বিশেষ? প্লুটো কি ভাবতেন বা গালিলিও কি আবিষ্কার করেন, দা ভিঞ্চি কিরকম ছবি আঁকতেন বা ভাস্কর্য সৃষ্টি করেছেন, মার্ক টোয়েন কেমন লিখতেন, এগুলোতো আমাদের ইংরিজি পড়েই জানতে হয়েছে। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ যে এক অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন তাঁর প্রমাণও বিদেশীদের কেউ কেউ বাংলা পড়েই জেনেছেন। আমাদের দেশের লোকই যখন রবীন্দ্রনাথকপ ঠিক মত চেনেনা, তখন বিদেশীদের েপছনে অত দৌড়বার কি প্রয়োজন?

একটা কারণ অবশ্য আমরা নিজেরাই। দেশ ছেড়ে ধনমানের সন্ধানে আমরা অনেকেই বিদেশে বাস করি।  চাকরির ক্ষেত্রে ইংরিজিতে কথা বলি এবং লেখালিখি করি। একসময়ে, ইংরিজিতে কথা বলাটা জাতে ওঠার লক্ষণ ছিল। আজ, কলকাতাতে সমৃদ্ধ বাঙালিরা বাড়িতে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ইংরিজিতে কথা বলে। বাংলা তো গেঁয়োদের জন্য - অর্ধশিক্ষিত চাষাভুসোদের জন্য। সুতরাং আজকের নতুন প্রজন্মের উচ্চশিক্ষত তরুন তরুনীরা, বিশেষ করে যারা অনেক বছর বিদেশে আছে, তারা বাংলা অনেকে বলতেই পারেনা - লেখা তো দূরের কথা।

কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতিক গর্বটা যায়নি। আমরা বাঙালি, রবীন্দ্রনাথের জাত - আর তাছাড়া, রবীন্দ্রনাথ, একশো পঞ্চাশ বছর বাদেও, একটি অক্ষয় স্বর্ণখনিবলে প্রমানিত হচ্ছেন - তাঁকে নিয়ে আজও লিখে হাততালি পাওয়া যায় কিছু সাহেবদের কাছে - সুতরাং কেন নয়?

রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার হেরফের’এ লিখেছেন যে বাংলা ভাষায় বেশি কিছু লেখা নেই বলে। ভাষার বিস্তার হয় ব্যবহারের সঙ্গে। যত লোকে নানা বিৎয়ে লিখবে ততই সে সাহিত্যের প্রসার হবে। সুতরাং, সমাজ দায়িত্য ছাড়াও, আমাদের মাতৃভাষা সম্পর্কিত একটা দাইত্যও আছে মনে করি। এবং রবীন্দ্রনাথের দূরদর্শিতা সম্বন্ধে যদি বিদেশীরা ওয়াকিবহাল না থাকেন, বাঙালি সম্প্রদায়ও তেমন কিছুই জানেন না - দুচারটি গান ছাড়া। আমরা যদি মনে করি তার সম্বন্ধে বলার আছে কিছু, বাংলাতেই বা বলি না কেন? আজকের দিনে তো তার শিক্ষা ও পল্লী উন্নয়ন চিন্তা আবার করে ানিবার্য ও অপরিহার্য মনে হচ্ছে - সারা বিশ্বের জন্য। তবে সেটা শুধু আমেরিকানদের জন্য না লিখে কয়েকবার বীরভুমের লোকদের জন্য লিখলে কি দোষ হয়?

আজকাল কাগজে পেনসিল বা কলম দিয়ে লোকে তেমন আর লেখেনা। একে অন্যকে ফোন করে, ই-মেল লেখে এবং Facebook ইত্যাদি আন্তর্জালীয় সংস্থান মানফত একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোত রাখে। হাতে কলমে লেখার অভ্যেস চলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় - ইংরাজিটা এই সব নতুন মাধ্যমে সার্বজনীন ভাষা। সুতরাং লোকেরা ইংরাজিতে লেখা, কথা বলা, ভাবা, স্বপ্ন দেখাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বাংলা যদি প্রানে বাঁচে ভারতবর্ষে, তো মনে হয় গ্রাম বাংলার জন্যই বাঁচবে। শহরের উর্ধগামী মধবিত্ত সমাজে বাংলা শিগগিরিই হয়তো হাসপাতালে অন্তিম শয্যায় খাবি খাবে।
আরেকটা কথাও উল্লেখযোগ্য মনে করি। ইংরিজিতে তো অনেক পণ্ডিতই লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে। সেসব লেখা একত্র করলে পর্বতাকার স্তুপ হবে কাগজের। একথা নিশ্চিত বলা যায় যে তাঁর ওপর ভবিস্যতেও পর্বতপ্রমাণ লেখা ও বিশ্লেষণা আবার হবে। এত লেখালিখি করে, লাভটা কি হয়েছে, এবং কার হয়েছে? ভারতবর্ষ এখনও তাঁর মর্ম জানেনা, তার শিক্ষা ও সমাজচিন্তা জলাঞ্জলি গেছে শান্তিনিকেতনে। ভারতবর্ষ এখনও তার গ্রামকে বাঁচাবার রাস্তা খুঁজে পায়নি - না পেরেছে সবাইকে মনুষ্্যত্বের শিক্ষা দিতে, বা নিযেদের মধ্যে ভাগাভাগী মারপিট বন্ধ করতে। দেশের নেতারা দেশকে লুট করতে ব্যস্ত। আর আমাদের মত পলাতক ভারতীয়রা বিদেশের আরামের জীবন কাটিয়ে, ইংরিজিতে লোককে লেকচার দিয়ে বেড়াচ্ছি রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে।

তবে যারা দেশে আছেন, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, তারা যে কিছু বৃহত কর্ম করে উল্টে দিচ্ছেন তাও না। তবে মনে হয় সেখানে হয়তো, সাধাসিধে লকোকেদের মধ্যেই সই, বাংলা লেখাটা এখনও অল্পবিস্তর প্রচলিত আছে।

সুতরাং - আমার আদি প্রশ্নটা ঘুরেফিরে আসছে - কিন্তু জবাব পাচ্ছি না - রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা বা সমাজ, বা মানবধর্মচিন্তা নিয়ে ইংরিজিতে লিখে কি ঘোড়ার ডিম হবে?

রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে কিরকম শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করতে চেয়েছিলেন তা দেখতে গেলে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তার ক্রমবিকাশ, ও চারদিকের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিবৃত্তের ভটনাবলী এবং রবীন্দ্রনাথের মনে তার প্রভাবও জানতে হয়। কিকরে গোঁড়া হিন্দু মতভাবাপন্য ব্রহ্মবিদ্যালয় পরিণত হ’ল ধর্মনিরেপক্ষ আধ্যাত্তিকতা বিকাশের সঙ্গে প্রকৃতিপরিচয়, সঙ্গীত কলা চর্চা, পল্লী উন্নয়ন, পূর্বের ্চীন-জাপানের সঙ্গে সালস্কৃতিক যোগস্থাপন ও  মানবধর্মবিকাশের এক বৃহত কর্মযোজ্ঞস্থল - সেটা বোঝার মত বিষয়।

যাঃ অনেক লিখেছি - ঘুম পাচ্ছে এখন
টা টা

Monday, July 4, 2011

তান লী দা, মাইকেল কিস্কু, সুদেষ্ণা এবং অামার ছড়া

অামেরিকাতে অাজ ছুটি। এখানে, ক্যানাডাতে অপিস খোলা। ভোরে ভোরে উঠে সুদেষ্ণাকে airport’এ পৌঁছে দিলাম। চার দিন অামাদের সঙ্গে কাটিয়ে ও অন্টারিও গেল গান গাইতে। চারটে দিন সুন্দর কাটলো। গাড়ি করে নানা দিকে যাবার পথে অামরা গান শুনলাম iPod থেকে এবং অালেচনা করলাম, রবীন্দ্রচিন্তা, বিশ্বাচিন্তা, ভবিশ্যত চিন্তা সব কিছু।

সুদেষ্ণার একটা অনন্য ব্যাপার হল, ওর পেশা একদিকে গনিত এবং অন্যদিকে ভারতীয় সঙ্গীত। ওয়াশিংটনে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চধাপের অংক শেখায় - অাবার অন্য দিকে সে ভারতীয় রাগপ্রধান গানের শিষ্যা ও রবীন্দ্রানুরাগিনী।

সুদেষ্ণা এই দিকে একেবারে যে একা তা নয়। শৈলজাদা ছিলেন রসায়ণের লোক। প্রশান্ত মহালানবিস ছিলেন স্টাটিস্টিক্সে পন্ডিত, তান লী দা ইঞ্জিনিয়ার - খুঁজলে নিশ্চই অারও এধরনের রবীন্দ্রানুরাগী পাওয়া যাবে, যদিও সবাই বিখ্যাত হয়তো নন। ডাক্তার তাপসদা’র (বসু) কথা মনে অাসে।

তারপর অাবার শনিবার বাড়িতে একটা পঁয়তাল্লিশ জনের জলসা। সে এক হৈ হৈ ব্যাপার। শুনলাম ওর ভুপালের সঙ্গীত গুরুদের কথা - এবং সুদেষ্ণা শুনলো অামার ছেলেবেলার স্মৃতি নিয়ে লেখা কবিতা। অামি সাধারণত মজার ও হাসির কবিতা ছাড়া লিখিনা। তবে ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গেলে তাতে হারিয়ে যাওয়া নিকটাত্মীয়দের কথা মনে অাসে এবং হাসির সঙ্গে অাসে চোখের জল। তার একটা উদাহরণ এখানে তুললাম।

সন্ধ্যে বেলায় একলা বসে ভাবি ঘরের কোনে
এজীবনের এত কথা, যাত্রা ক্ষণে ক্ষণে
সবাই যেন দিয়ে ফঁাকি
হেথায় অামায় একলা রাখি
হারিয়ে গেল ঔ অঁাধারে শিরিষ ঝাউয়ের বনে

মনে পড়ে ছোটবেলার বিনয়ভবন মাঠ
উঠোনেতে ঘঁুটেওয়ালা - উনুন জ্বালার কাঠ
দিদার হাতের তালের বড়া
মাদুরে অামসত্ত করা
রাতের ঘুমে জানলা দিয়ে বৃষ্টি জলের ছঁাট।

ভাইফঁোটার দিন মা অাঁকতেন উঠোনে অালপনা
বড়মামার নতুন রেকর্ড ’ও ভাই কানাই’ শোনা
দুপুরবেলা শুয়ে একা
দেওয়ালে টিকটিকি দেখা
পূজোয় অাঁখির নতুন ফ্রক অার অামার জামা গোনা

কোথায় সেকাল ফুরিয়ে গেল, সবাই গেল হারিয়ে
অামিই দেখি রইনু বাকি - এই পাড়েতে দঁাড়িয়ে
স্মৃতিগুলি সন্ধ্যাবেলা
অামায় নিয়ে করছে খেলা
বাবার ছবি, মায়ের মুখ অার অাঁখির হাসি জড়িয়ে॥

তনু


স্বাতি, বাপ্পা, মুনমুন, তনয়া, মিমি, অনন্যার বাবা - এরা সবাই সেদিন বাড়ির জলসাতে গান করলো। সুভময় বাবু দারুন তবলা বাজালেন। বাপ্পা অার স্বাতি তো বহুগুনের গুনী। সুতরাং ওরা গান ছাড়াও পাঠ এবং audio নাটকও করতে পারে। স্বাতি এবিশয়ে বিশেষ পারদর্শিনী। খুব জমেছিল।

অন্যঘরে একটু কম অাওয়াজে শান্তিপূর্ণ অাবহাওয়ায় অাড্ডাতে শঙ্করকে সঙ্গ দেন কেউ কেউ। তার মধ্যে ছিল কলকাতা থেকে পর্যটক তনয়ার ভাই। অার অন্যদিকে তনয়ার মার কাছে তাঁদের পানের বরজের গল্পটা খুব উপভোগ করেছি। এরই ফাঁকে অামিও লোকদের অামার কিছু ছড়া শোনাতে ও অাঁকা ছবি দেখাতে ছাড়িনি। মনে হ’ল লোকেদের পছন্দ হয়েছে অল্প বিস্তর। ছড়ার বিষয় ছিল ছোটবেলার স্মৃতি থেকে দেশে anti-corruption নিয়ে চ্যাঁচামেচি, CPM এর পশ্চিম বঙ্গে ঘটি উল্টনো, হঠাৎ বনবাঁদাড় থেকে বেরিয়ে অাসা গুচ্ছের সদ্য জাগরিত এবং নিজের ঢাক নিজেই পেটাতে ব্যস্ত রবীন্দ্র পন্ডিতদের নিয়ে। একটা উদাহরণ রইল এখানে।

অ্যান্টি-কোরাপশান

ঘুষের রাজ্য হ’ল অপরিহার্য - এটা ভ্রষ্টাচার্য নেতা বলছে ভাই
ভুত-নীতিজ্ঞ যত কূটনীতিজ্ঞ জুটে লুট-নীতিজ্ঞ বনে চলছে তাই
বলির যুদ্ধে নামে কলির বুদ্ধ, তাতে গলির ক্রুদ্ধ লোকে হাত মেলায়
ঢংয়ের মামাটি বেঁটে - সংয়ের জামাটি সেঁটে, রংয়ের ধামাটি এঁটে দাঁত কেলায়॥

তনু


কিন্তু বাড়ির জলসা নিয়ে লেখার জন্যই কি এই ব্লগোথেরিযামকপ ধরেছি? নাকি অামার ছড়ার বানী প্রচার করতে? কোনোটাই নয়। তবে কি নিয়ে লিখবো ঠিক করার অাগেই লেখা শুরু করে দিয়েছি - এটা অামার একটা প্রাচীন বদভ্যেস।

যা হোক, World Poetry Reading বলে একটি non-profit দল অাছে - যার ভ্যানকুভারের দলনেতারা রবীন্দ্রনাথের সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে মাস দুয়েক বাদে একটা সারা দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান করতে চায়। তাতে অমাদের যোগ দেবার ব্যাপারে কথা বলতে ডিউক, রুবি, ও অামি ওদের সঙ্গে একটা প্রাথমিক অালোচনায় বসলাম। মজার ব্যাপার হল সুদেষ্ণা খবর পেয়ে উৎসাহিত হয়ে চলে এল অামাদের সঙ্গে। অারেক দিন ওর সঙ্গে বসতে হবে, তান লী দা অার লীনা দিকে নিয়ে। অার পিয়ার বান্ধবি জিয়ানহুয়ার সঙ্গেও কথা বলতে পারলে ভালও হয় এই বিষয়ে। তাই তাকে একটা চিঠি পাঠিয়েছি। অাজকাল চিঠি বলতে ই-মেইল।

অাসচে সপ্তাহে ডিউক ওদের সঙ্গে রিচমণ্ড সহরে অনুষ্ঠান মঞ্চ দেখে অাসবে। অামি কাজের মধ্যে যেতে পারব না। দেখা যাক কি হয় এবং কতদূর অামরা অামাদের দিকের কল্পনাকে রুপ দিতে পারি এঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে - তবে গতানুগতিক গান নাচও তো অনেক হল - অন্য কিছু করার চিন্তা অাছে।

ভাবছিলাম কত ভাবে কত লোক রবীন্দ্রনাথকে ভাঙিয়ে অাজও খাচ্ছে এবং কি অাশ্চর্য ভাবে গুরুদেব এই একটি নতুন প্রকারের চিরস্থায়ী শিল্প তৈরি করে গেলেন বাঙালীদের জন্য। অাবার এও মনে হয় - রবীন্দ্রনাথ এই শিল্প তৈরি করে গেলেও, তার সম্পূর্ণ অবদান অামরা না পেরেছি বুঝতে, এবং না পেরেছি সেই বানীর রুপায়ণে হাত মেলাতে। হাতে রইল পেনসিলের মত রইল শুধুই গান এবং নাটক - যার বানী বোঝার প্রয়োজন রইল না, এবং তারই সঙ্গে রইল না অামাদের সমাজ উন্নয়ণের মহাযোজ্ঞে লাগতে। শুধু জলসা শেষে হাত তালি অার সাধুবাদটাই থেকে যায় - রবীন্দ্রনাথের বানীর এক বিকল প্রতিধ্বনিরুপে। এটা যেন রবীন্দ্রচরিতামৃতপালার এক ব্যঙ্গধর্মী বিয়োগান্তিক যবনিকা। সঙ্গীত পেশ হবে দামি টিকিটওয়ালা স্টেজে,  পয়সাওয়ালা লোকেরা তা শুনবেন, বিজ্ঞ সঙ্গীতশ্রোতারা মাথা নেড়ে বাহবা দেবেন। অার নেপথ্যে গুরুদেবের অাত্মার অশ্রুপাত অজ্ঞাত রয়ে যাবে জনসাধারণের কাছে।

লীনাদি বলেন এই সব নিয়ে অামার কবিতা লেখা উচিত - ভাদুগান তৈরি করা উচিত, এবং ছড়া লেখা। ভারতের অন্য ভাষার রবীন্দ্রানুরাগীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নানা ভাষায় তার প্রচারে যুক্ত হওয়া উচিত। লীনাদি অামাকে সামর্থাধিক উচ্চ সৃষ্টিশীলতার মঞ্চে তুলেছেন, সেটা নিজেই বোঝেননা। একেই বলে অন্ধ স্নেহ।

এই সব চিন্তা নিয়ে কাটছে। ইদানিং কালে চারদিকে গিজগিজ করে অাগাছার মত গড়ে ওঠা রবীন্দ্র পন্ডিতদের নামে অারেকটি ছড়া লিখেছিলুম - সেটা তোলা হল এখানেঃ

উথলে পড়া রবীন্দ্র-প্রেম
ফিচকে ফাজিল মিচকে যত হেঁচকি তোলা মিটমিটে
কুঁচকি বাঁকা পুচকি শেয়াল গাইছে খেয়াল চিটচিটে
হ্যাংলা বুড়ির প্যাংলা ছুঁড়ির ফোকলা হাঁসির ঝিকমিকি
রবির প্রেমে ছবির ফ্রেমে ঝোলায় বাসি টিকটিকি
তনু

তবে লীনাদির একটা কথা মনে ধরেছে - রবীন্দ্রবিষয়ক ছড়া। গিজিগিজ করা রবীন্দ্রপন্ডিতদের ছেড়ে রবীন্দ্রনাথের দূরদৃষ্টিতা এবং অামাদের দূরদৃষ্টিহীনতা নিয়ে, বা তাঁর সমাজচিন্তা, মানুষের মধ্যে ধর্মীয়, জাতীয়, ভাষাবিদ, পেশাগত ভেদাভেদকারণে সমাজের ক্ষুদ্রতা দূরিকরণ, এইসব নিয়ে কি ছড়া লেখার ক্ষমতা অাছে অামার? এ নিয়ে চিন্তা করা প্রয়জোন এবং তার সাথে কিছু পরীক্ষামূলক চেষ্টারও হয়তো দরকার। হাঃ, ভাবতেও মজা লাগছে - তনু নাকি লিখবে দেশের জাতিধর্মভেদ নিয়ে সামাজিক ছড়া, তাও অাবার রবীন্দ্রচিন্তানুসরণে! পাগলামিরও একটা সীমা থাকা দরকার।

ইতিমধ্যে বামপন্থিদের ত্রিশ বছরের ভন্ডামির পর মমতাদির হাতে ওদের কাছা কোঁচা খুলে গো-হারা হারের পর সেই অনেক অাগে লেখা কবিতায় শেষ লাইনটা জুড়ে দিয়ে লিংেছিলুম ঃ

CPM বুলির ভর্তি ঝুলি

মামারা সব ধামা ধরে - লাল সেলামি জামা পড়ে
জাতিনষ্টের ম্যানিফেস্টো - চেটে দেখে বেঁটে কেষ্ট
হাঁউ মাউ করে জ্যোতি মামা - বগলে CPM-নামা
ভেঙে সমাজের কাঠামো - পার্টি কেডারের জ্যাঠামো
বেঁকা রাজ্যের খ্যাঁকা মন্ত্রী - বেকার কাজের ন্যাকা যন্ত্রী
বামের নামের ভন্ড ঝুলি - তোতাপাখির শেখা বুলি
“চলবে না চলবে না” - অার কিছু সে বলবে না
স্বাধীন চিন্তায় অন্ধ কালা - কারখানাতে ঝুলিয়ে তালা
বাঙালীদের ব্যাবসা মেরে - বেচে দেন অবাঙালীরে
বাইরের লোককে লুকিয়ে এনে - ভোটের লোভে ঢোকায় বনে
সিঁদ কেটে সে কুমির ডাকে - ম্যানিফেস্টের বুলির ফাঁকে
সমাজচিন্তা শেখেনি - বহির্জগত দেখেনি
ম্যানিফেস্টো কাঁধে করে - পার্টির কুলি দৌড়ে মরে
এঁড়ে তক্কে কাঁচা লঙ্কা - সতকাজেতে লবডঙ্কা
যাচ্ছেতাই সব বিধির সাথি - খাচ্ছে তাই অাজ দিদির লাথি
তনু

শান্তিনিকেতনের অাদর্শ অাশ্রমিক হিসেবে অনেকে অনেক লোকের নাম নেয়। অামি ভুলুমামা, তান লী দা এবং মিষ্টুনিদির নামও শুনেছি, এবং শুধু অতুলনীয়তার দিক দিয়ে বিচার করে ব্রতীন সেনকেও অামি তালিকা ভুক্ত করি। কিন্তু, যদি শুধু গুরুদেবের বিশ্বমানবচিন্তাসূত্র ধরে তাঁর শান্তিনিকেতনে পৃথিবীর উপযুক্ত নাগরিক তৈরি প্রচেষ্টার সফল উদাহরণের খোঁজে বেরোই, তবে মনে হয় দৃষ্টি খরশান রেখে তেমন লোকদের খুঁজতে হয় যারা রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন না থাকলে ঐ মানবচিন্তার দৃষ্টান্ত হ’য়ে নাবালক থেকে পরিনত মানুষ হতেন না। এই অন্বেষণে অসংখ্য অাশ্রমিকদের ভিড়ে দুজনকে স্বীকৃতিদানের প্রয়োজন দেখি। তান লী দা এবং মাইকেল।
তান লী দা

তান লী দার জন্ম চীনদেশে চীনা পিতামাতার ঘরে। কিন্তু গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ বহু বছর ধরে এক দ্বিধাহীন প্রচেষ্টা চালিয়েছেন চীন ও ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যা পরবর্তী কালে ছিন্ন হয়েছিল, তাতে পুনরায় প্রাণসঞ্চার করা। সেই প্রচেষ্টা অবলম্বন করে তিনি চীনা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অধ্যাপক শ্রী তান ইয়ুন শানকে অাহ্বান করেণ শান্তিনিকেতনে এসে চীনা ভবন তৈরি ও চালানোর কাজে যুক্ত হতে। সেই সূত্রে তান লী দার ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনে অাগমন। অনেক বিদেশিই এসেছেন এবং রাবীন্দ্রনাথের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন নানা কর্মযোগে। কিন্তু তান লী দার মত নজির হয়তো অার নেই যারা বিদেশ থেকে এসে বড় হয়েছেন রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এবং যাদের অাত্মবিকাশে রবীন্দ্রনাথের মানবচিন্তা হ’য়ে ওঠে জীবনের ধ্রুবতারা, যাদের স্বাত্মিক পরিচয় এত সম্পূর্ণ ভাবে অনুপ্রাণীত হয় রবীন্দ্রনাথের মনশ্চক্ষুতে দেখা অাদর্শ শিক্ষায়তনদ্বারা - যত্রবিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম - যা হবে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চেতনা ও উদ্দীপনার নীড়, যেখানে মনুষ্যজাতির সর্বোচ্চ চিন্তাধারা পুষ্টি পাবে দৈনন্দিন। তান লী দার মতন অারেকটি উদাহরণ অামার মনে হয় নেই, এবং কোনও দিন হবেও না অার।

মাইকেল মধুসুদন কিস্কু জন্মেছিল এক সাঁওতাল পরিবারে, শান্তিনিকেতন থেকে দূরে। তার বাবা ছিলেন সূত্রধর - কাঠের কাজ করতেন। মা ছিলেন নার্স। এটাও এখানে বলা প্রয়োজন বোধ করি যে, ওরা যদি খৃষ্টধর্ম না গ্রহন করতেন, তাহলে ওর বাবা মা কার্পেন্টার বা নার্স হয়তো হতে পারতেন না, এবং জীবনে অারও সামনের দিকে এগোতে পারতেন কিনা বিচারসাপেক্ষ। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে অাসে - “হে মোর দূর্ভাগা দেশ যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান”। অথচ, অাজও, অামাদের দূর্ভাগা দেশ তাদের অপমান করে অাসছে দিনের পর দিন - এবং অাজও রবীন্দ্রানুরাগীরা মঞ্চে বসে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছেন, শুনছেন, হাত তালি দিচ্ছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথের মানবচিন্তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে, এবং সাঁওতাল গ্রামেরই পাস দিয়েই বড় গাড়ি চড়ে বাড়ি পৌঁছে অঘোর নিদ্রা দিচ্ছেন সারা রাত এবং সারা জীবন। “সন্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান”।
মাইকেল কিস্কু

মাইকেলের মা বিশ্বভারতীতে চাকরি পান হাসপাতালের নার্স হয়ে। তাঁদের ছেলেমেয়েরা পায় পাঠভবনে পড়ার অাহ্বান। মাইকেলের জীবনের সেটা হয় এক যুগান্তকারি সুযোগ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। তার নিজেরই ভাষায় তার হাতের লাঠি কখন পরিনত হয় এক বাঁশিতে, যাতে ফুঁ দিলে সুর বের হয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর শান্তিনিকেতনের শিক্ষাপদ্ধতি শুধু মধ্যবিত্ত বাঙালীর চাকরি পাবার কল হিসেবে বানান নি, যদিও মধ্যবিত্ত বাঙালীরা বেশির ভাগ তাই অাশা করে শান্তিনিকেতন থেকে। সবার পিছে, সবার নীচে, সবহারাদের মাঝেও গুরুদেব ঈশ্বর খুঁজে পেয়েছিলেন, এবং তাদের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে মেলাবার পথ খুঁজেছিলেন। সেই রবীন্দ্রপ্রচেষ্টার হয়তো সর্বশ্রেষ্ঠ সপ্রাণ উধাহরণ হল অামাদের ছোটবেলার বন্ধু মাইকেল।

তান লী দা এবং মাইকেলকে নিয়ে কি তনু ছড়া লিখতে পারে? জানিনা ! একটা প্রশ্ন ওঠে - লিখলেই বা, পড়বে কে? তবে তার উত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন - “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না অাসে তবে একলা চলো রে”। অামরা সুতরাং ভাল মন্দ সাধ্য মত লিখতে ও বলতে পারি, উচিতও তাই করা। তবে, সেই ছড়া যদি ছন্দমধুর হয় এবং তার কথাতে যদি মর্মস্পর্শী সকরুণতা থাকে - তবে হয়তো একলা না চলে পথে গুটি কয়েক শ্রোতা বা সুহৃদও মিলবে।

এই হল অাজকের ব্লগব্লগানি।
অাপনারা কি বলেন?

এই ব্লগের নিচে অাপনারা সরাসরি মন্তব্য রাখতে পারেন, অালাদা করে email না লিখে। তাতে সবাই পড়তে পারে অাপনার কথা এবং চা দেখে হয়তো অনুপ্রাণিত হবে নিজেরাও লিখতে। বাংলা ফন্ট না থাকলে ইংরিজিতেই লিখুন, কিম্বা ইংরিজি হরফে বাংলা ভাষায় লিখুন। সবই চলবে।

ইতি তনু