Search This Blog

Showing posts with label Santiniketan. Show all posts
Showing posts with label Santiniketan. Show all posts

Thursday, October 13, 2011

বিশ্বভারতী - নারী বিভাগ

প্রবাসী পত্রিকার আষাঢ়, ১৩৩৯ সংখ্যায় প্রকাশিত

বিশ্বভারতী - নারী বিভাগ
শ্রীআশা দেবী
শান্তিনিকেতনে শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীতে গত কয়েক বৎসর ধরিয়া যে নারী বিভাগ গড়িয়া উঠিতেছে, তাহাতে ছোট ও বড় সকল বয়সের মেয়েদের জন্য একটি সর্ব্বাঙ্গসম্পূর্ণ ও স্বাভাবিক শিক্ষা দিবার আয়োজন আরম্ভ হইয়াছে। ভবিষ্যতে এই সকল শিক্ষার আয়োজনগুলিকে সংহত করিয়া একটি মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনা করিবার সঙ্কল্প প্রতিষ্ঠাতার পনে আছে। কিন্তু যতদিন না তাঁহার এই সঙ্কল্প কার্য্যে পরিণত হয়, ততদিন মেয়েদের নানাদিক হইতে শিক্ষা লাভ করিবার যত উপকরণ ও সুযোগ বিশ্বভারতীতে পাওয়া যায়, ভারতবর্ষের অন্য কোনও নারী-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাহা সম্ভব নয়।

    ১। শিশু বিভাগ - ছয় হইতে বারো বৎসর পর্য্যন্ত বালিকারা শিশু বিভাগে পরিগনিত হইয়া থাকে। নারী-ভবনের একটি বিশেষ অংশে একজন পৃথক মেট্রনের তত্ত্বাবধানে তাহাদের থাকিবার ব্যবস্থা আছে। এই বয়সে তাহাদের বাড়িবার সময় বলিয়া তাহাদের খাদ্য, খেলাধুলা ও স্বাস্থের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। তাহাদের শিক্ষা যাহাতে কেবল পাঠ্যপুস্তকে আবদ্ধ না থাকে, সেজন্য তাহাদের বহির্জগতের সহিত পরিচয় এবং হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় - বাংলা, ইংরেজী, অঙ্ক, ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি পাঠ্য বিষয় ছাড়া তাহাদের সঙ্গীত, নৃত্য, চিত্রবিদ্যা, কাঠের কাজ, মৃৎ-শিল্প (clay-modelling), সেলাই প্রভৃতির শিক্ষারও ব্যবস্থা আছে।

২। স্কুল ও কলেজ বিভাগ - স্কুল ও কলেজ বিভাগে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন, ইন্টারমীডিয়েট ও বি-এ পরীক্ষার জন্য ছাত্রীদের প্রস্তুত করা হয়। এই বিভাগের ছাত্রীরা তাহাদের পরীক্ষার পাঠ্য ছাড়া সঙ্গীত, চিত্রকলা, সেলাই, বয়নশিল্প বা অন্য যে কোনও হাতের কাজে শিক্ষা গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করেন, তাহার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও সুবিধা দেওয়া হয়। মেয়েদের দেখাশোনা করিবার জন্য নারীভবনে একজন মহিলা ওয়ার্ডেন ও একজন মেট্রন থাকেন, কিন্তু তাহাদের জীবন পরিচালনা করিবার ও সকল বিষয়ে নিয়ম রক্ষা করিবার ভার প্রধানতঃ তাহাদের নিজেদেরই হাতে। এইরূপে স্বায়ত্তশাসনের দায়িত্ব গ্রজণ করিয়া, সাধারণ রন্ধনশালার কার্য্যে যথাযোগ্য সাহায্য, শিশুদের সময়ানুসারে দেখাশোনা ও রোগীর সেবা প্রভৃতি কার্য্যভার লইয়া যাহাতে তাহাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়, তাহাই এখানকার শিক্ষাবিধানের উদ্দেশ্য।
যাঁহারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত না হইয়া কেবল সাধারণভাবে শিক্ষা লাভ করিতে ইচ্ছা করেন বা যে বিষয়ে তাঁহাদের বিশেষ অনুরাগ কেবল তাহারই অনুশীলন করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহাদের জন্যও বিশ্বভারতীর নারী-বিভাগে বিশেষ ব্যবস্থা আছে।

৩। কলাভবন - যাঁহাদের কেবলমাত্র সঙ্গীতে বা চিত্রবিদ্যায় অনুরাগ, তাঁহারা বিশ্বভারতীর কলাভবনে ছাত্রী হইতে পারেন। কলাভবনের চিত্রবিভাগের অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত নন্দলাল বসু ও সঙ্গীত বিভাগের অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বিভাগের ছাত্রীরা যদি তাঁহাদের সাধারণ শিক্ষার জন্য আর কোনও বিভাগে কোনও বিষয়ে পড়িতে ইচ্ছা করেন তাহারও সুযোগ দেওয়া হয়।

৪। বিদ্যাভবন - যাঁহারা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত না হইয়া বিশেষভাবে কোনও বিষয়ের অধ্যয়ন বা গবেষণা করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনের ছাত্রী বলিয়া পরিগনিত হন এবং নির্ব্বাচিত বিষয়ে তাঁহাদের শিক্ষা সমাপ্ত হইলে বিশ্বভারতী হইতে তাঁহাদের যথাযোগ্য উপাধি দেওয়া হয়। বর্ত্তমান বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে বিশেষভাবে অধ্যয়ন বা গবেষণা করিবার ব্যবস্থা ঁছে ঃ-
(১) সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য, (২) পালি ভাষা ও সাহিত্য, (৩) বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য, (৪) হিন্দী ভাষা ও সাহিত্য, (৫) উর্দ্দু, ফার্সী, আরবী, ভাষা ও সাহিত্য, (৬) প্রাচীন ভারতেতিহাস ও কৃষ্টি, (৭) ভারতীয় মধ্যযুগে সাধনার ধারা, (৮) জৈন-দর্শন ও জৈনশাস্ত্র, (৯) ভারতীয় পাশ্চাত্য দর্শন, (১০) শিশু-মনস্তত্ত্ব ও শিশুশিক্ষা।

৫। শিল্প বিভাগ - যাঁহারা সাধারণ শিক্ষার সহিত কোনও হাতের কাজ বা অর্থকর শিল্পে শিক্ষা গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা নিম্নলিখিত যে-কোন শিল্পে শিক্ষা গ্রহণ করিতে পারেন - বয়ন, রঞ্জন, মুদ্রণ, বহি-বাঁধা, গালার কাজ, চামড়ার কাজ, সেলাই, বাতিক-কাজ (batik), কাঠ-খোদাই।

৬। পল্লীসেবা বিভাগ - পাশ্চাত্য দেশে যে সকল মহিলা সমাজের সেবা বা অন্য কোনও জনহিতকর কার্য্য জীবনের ব্রত বলিয়া গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করেন, তাঁহারা সেই সেই কার্য্যের জন্য যাহাতে আবশ্যক শিক্ষা লাভ করিতে পারেন, এমন অনেক প্রতীষ্ঠান ইউরোপে ও আমেরিকায় আছে। আমাদের দেশেও বর্ত্তমানে শিক্ষিত মেয়েদের মধ্যে এইরূপ সেবাব্রত গ্রহণ করিবার গভীর ইচ্ছা জাগিয়াছে, কিন্তু সেই ব্রগ্রহণের উপযুক্ত হইবার জন্য যেরূপ শিক্ষার প্রয়োজন সেরূপ শিক্ষা লাভ করিবার সুযোগ এক মহারাষ্ট্র প্রদেৎ ভিন্ন ভারতবর্ষে আর কোথাও নাই। বিশ্বভারতীর অন্তর্ভুক্ত “শ্রীনিকেতনে” পল্লীসেবা ও বিশেষভাবে বাংলার পল্লীগ্রামের নষ্ট স্বাস্থের যে চেষ্টা চলিতেছে সেখানে মেয়েদেরএই শিক্ষা গ্রহণ করিবার ক্ষেত্র প্রস্তুত আছে।
পল্লী বাসী নরনারী বা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক জীবন, বা আর্থিক অনটন বা যে-কোন একটি সমস্যার সমাধানকে জীবনের ব্রত বলিয়া যে-সকল মেয়েরা গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করেন এবং সেজন্য নিজেদের উপযুক্ত করিতে চাহেন তাঁহারা শ্রীনিকেতনের কর্ম্মীদের তত্ত্বাবধানে ও পরিচালনায় গ্রামে গ্রামে যে-সকল অনুষ্ঠান আছে তাহাদের সহিত কাজ করিয়া হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করিতে পারেন এবং পল্লীজীবনের সমস্যা লইয়া শ্রীনিকেতনে যে নিয়মিত বক্তৃতা ও আলোচনা হয় তাহাতে যোতদান করিয়া থিওরিটিক্যাল শিক্ষা লাভ করিতেও পারেন। তাঁহাদের থাকিবার ও কাজ করিবার সুবিধার জন্য সম্প্রতি শ্রীনিকেতনে একটি পৃথক ছাত্রীনিবাস স্থাপিত হইয়াছে।
যে শিক্ষা মানব প্রকৃতির কোনও অংশের বিকাশকে খর্ব্ব না করিয়া তাহার সমগ্র বিচিত্রতাকে সহজ ও সম্পূর্ণ ভাবে বিকশিত হইবার সুযোগ দেয়, সেই শিক্ষাই বিশ্বভারতীর আদর্শ ও লক্ষ্য। সেইজন্য বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা শান্তিনিকেতনে ও শ্রীনিকেতনে মেয়েদের শিক্ষার জন্য এমন একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করিতেছেন যেখানে তাহারা তাহাদের বুদ্ধিবৃত্তি, জ্ঞানানুরাগ, সৌন্দর্য্যবোধ, সেবা ও কর্ম্মকুশলতা, সকল দিক হইতে নিজেকে প্রকাশ করিবার ও সৃষ্টি করিবার সুযোগ পাইয়া তাহাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ও সার্থক করিয়া তোলে।
-----------

Thursday, September 29, 2011

Palestine in Bengal

Some years ago, I was taking a train ride in Bengal, going from Kolkata to Bolpur.

In recent years, roads have improved, greatly cutting down driving time between those two cities. Also, cars on rent, including driver, is common these days. So, often end up renting a car while in Bengal. However, this was one of the occasions when I did not have a car. Thinking about it, I would have liked to own a good bicycle while in Santiniketan, which would keep me mobile and healthy. A scooter is also good, but not worth owning it if we only visit once in many years.

Anyhow, this specific time, I was traveling by train - not a bad way to go if you wish to meet up fellow travelers and get their feelings. On this occasion, I had my mother with me, and on the trip she was speaking with another resident of Santiniketan. I was taking pictures out of the window and into the compartment, and listening to the general conversation.

On the other side of the central aisle, there were a few Bengali youths, from suburban Calcutta, who were going a few stops only and not all the way to Bolpur. They were loud in their discussion, but not disrespectful of others. I actually liked some of their topics of discussion, which included state level politics, the so called degradation of the global environment and who was responsible for it. They discussed CPM government. I could guess that the feelings of these youths were no more about blind support of the communist regime, but same time, a lot of apprehension and suspicion of western influence on India and the power of the corporations. They were all worried about getting a job. They did not talk about work ethics, discipline and the virtue of working hard - something that I often felt was an issue that should be addressed. Anyhow, I did smile at some of their comments, and even joined in and offered my comments here and there. I was pleasantly surprised to note that they actually welcomed my participation. Clearly, I did not live in India - they had figured it out and also heard by mother speak about me to her friend. Somehow, my opinion seemed important enough for them.

Their talk moved on to street protests in Calcutta - something to do with rising price of things. They laughed about some of the police being pelted by stones and the police rounding up some innocent bystanders, while some of the real miscreants got away. In the process, the boys described one youngster, who was not present in the train, as a “palestine” boy, in Bengali. I had not come across the term. The boy they were speaking about had a Bengali name, was clearly a boy of the neighborhood, and had no ancestry in Palestine. He was not an Arab nor a Muslim. The term Palestine was not used as a Geographic location. The boy was not called Palestinian. Rather, the term was used as an adjective.

Eventually I figured it out. A ‘palestine’ boy, in Bengali, for these kids, meant a boy that was brave, was daring, stood up for his rights, was not afraid to face up to big opponents. It was an admirable adjective, betting local a local hero.

I found it amusing, and worthy of introspection. Here was a part of the world where folks were not Arab, not Muslim, and far removed from the Arab-Israeli conflict. But, television and international news had brought the world closer to home, and in the process, it was the stone pelting youths of Palestine that these unemployed kids of Bengal identified with.

It was almost like a David and Goliath story, but in reverse. Here David was not a poor Jewish village boy. Instead, it was a poor Palestinian kid, standing up to the Israeli tanks and armored cars. The Israeli army had turned into Goliaths. And the story had permeated through layers of linguistic, ethnic, cultural and civilizational barriers and reach remote corners of Bengal, where a brave boy taking on the state apparatus protesting rising food prices or their inability to get a good job. Identifying with the proverbial David, he begins to identify a brave brothers as ‘palestine’ boy. The exact term used, which kept ringing in my year, was ‘সে ছেলে প্যালেস্টাইন ছেলে’ or, ‘that boy is a palestine boy’.

In a way, David and Goliath had turned Bengali, and Palestine had arrived into the heartland of Bengali street culture.

Today, with the recent application by Palestine to the UN for recognition and statehood, and the intense backdoor horse trading by the US on behalf of Israel to prevent it, was the trigger that tweaked my memory about the incidence on the train in Bengal some years ago. This shows how the US-Israel axis is slowly losing ground on the ground globally - some of it in strange ways, such as these young kids of Kolkata, who find heroism and fighting the justice in the actions of Palestinian youngsters wanting freedom from oppression, and their underdog status naturally attracts sympathy, whereas the Israeli juggernaut and its US ally is considered the Goliaths of today.

Perhaps I should take a few more train journeys this time in India. Another way of keeping in touch with the land.

Thursday, August 11, 2011

HLC REPORT’এর ফাঁক বিশ্লেষণ

বিশ্বভারতীকে ঠিক পথে ঘোরানোর যদি প্রয়োনীয়তা থাকে আজও, তবে কি করে তা করা যায় তা চিন্তা করতে গিয়ে যে কয়টা প্রধান কথা মনে আসে তা হল উপাচার্য যে মানুষই হন, এবং তাঁর ইচ্ছা যাই থাকুক, তার হাতে যদি ঠিক ঠিক যন্ত্র বা অস্ত্র না দেওয়া হয়, তাহলে তার ঠিক ঠিক ভাবে পরিবরতন আনা হয়তো অসম্ভব হবে। অথচ, সেরকম যন্ত্র হয়তো প্রশাসনের হাতে তোলা যাবেনা যতক্ষন সংসদের বিশ্ব-ভারতীকে নিয়ে যে আইন করা হয়েছে, তার সংশোধন হয়। সুতরাং - এই সংশোধনে কি কি সংযোজন থাকা উচিত, আর কি কি দূরকরণ - তা খুঁতিয়ে দেখা দরকার এবং দিল্লীকে আবেদন করা দরকার, হয়তো কলকাতায় মমতাকেও। তার প্রথম পদ হিসেবে Visva-Bharati act’টা আবার পড়তে শুরু করেছি, এবং ভাবছি লীনা দির সঙ্গে বসে একটা খসড়া তৈরি করবো, ইংরিজিতে এবং বাংলাতে - দিল্লী কলকাতাকে ভবিস্যতে ঠেলা দেবার উপলক্ষে।
Parliament act পড়া ও সংশোধন করার ব্যাপারে কোনই অভিজ্ঞতা নেই - কিন্তু একজন আছেন জিনি এসব কাজে অভিজ্ঞ এবং একাজে হাত মেলাতে রাজি - লীনা চ্যাটার্জী।  তাঁর সঙ্গে বসে অগাস্টের আট তারিখ মাঝ রাতে, বিশ্ব-ভারতী act নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করদ হল কিছুটা। তার সঙ্গে amendment গুলোও দেখা হল, পড়া হল আবার করে HLC রিপোর্টের পনেরটি সুপারিশ। সতি্য কথা বলতে হ’লে, সেই তালিকাটি খুব ভাল ও উপযুক্ত মনে হয়েছিল যখন প্রথমবার পড়েছিলাম বেশ কিছু বছর আগে। শ্রী গোপাল গান্ধী তান লী দাকে সেই বইটির একটি কপি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু, এই কয় বছরে শান্তিনিকেতন তথা বিশ্ব-ভারতী সম্পর্কে আমার ধারনা পাল্টেছে, জ্ঞান বেড়েছে, নানা লোকের, দপ্তরের ও বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ হ’য়েছে ও মতবিনিময় হয়েছে। সুতরাং বর্তমান পটভূমিতে - সেই পনের দফার সুপারিশ মনে হয় যথেষ্ঠ নয়। অনেক দরকারি কথা বাদ পড়েছে এবং কিছু মামুলি ব‍্যাপারকে প্রাধান‍্য দেওয়া হয়েছে হয়তো।
এখন আমারা কি কি করা উচিত বোধ করি, এবং তার কি কি গত রাজ্যপালের পনের দফা সুপারিশে শামিল, এবং কি কি বাদ পড়েছে এবং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, তার ফাঁক বিশ্লেষণ করা হয়তো প্রয়োজন। তার জন্যই এই লেখাটি তৈরি। ইংরিজিতে এই ধরণের প্রচেষ্টাকে কেউ কেউ Gap Analysis বলেন। তারই সরাসরি অনুবাদ করে আমি ফাঁক বিশ্লেষণ কথাটি ব্যবহার করি এখানে।
রাজ্যপালের সুপারিশ তালিকা ধরেই বিশ্লেষণ শুরু করছি।

পরিবেশ
১. বিশ্বভারতী সংরক্ষণ সমিতি গঠন করা, যাতে উপাচার্য নেতৃত্ব দেবেন এবং যাতে SSDA’র প্রতিনিধিরা থাকবেন। তাতে উপাচার্যর নেতৃত্য থাকা উচিত। এই সমিতির কাজ হবে বিশ্বভারতীর জমির মালিকানা বিষয়ক সব কাগজপত্র দেখা এবং বিশ্বভারতীর প্রাপ্য জমির সীমানির্দেশ করা।
এই কাজ কতদূর এগিয়েছে জানা নেই। বর্তমানে SSDA জীবিত না মৃত তাও জানা নেই। এই রিপোর্ট লেখা হয় যখন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় SSDA’এর নেতা ছিলেন। বিষয় টা গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর সমাধান নিয়ে মতানৈক্য আছে। আজ যে বিশ্বভারতীর চারিদিকে দেয়াল উঠানো হয়েছে তা নাকি HLC রিপোর্ট অনুযায়ী। অথচ রিপোর্টে দেয়াল তোলার উল্লেখ নেই। শুধু তাই নয়, প্রাচীরবেষ্টিত বিশ্বভারতী এবং রবীন্দ্রনাথের চিন্তা পরস্পরবিরোধী। বিশ্বভারতীর জমির সীমিকরণ ও রক্ষা এরকম চরম চক্ষুশূল বিশ্রী শহুরে কদর্যতা  ছাড়াই সৌন্দর্যবোধবিশিষ্ট প্রকারে মুক্ত দিগন্তকে অবরুদ্ধ না করেই করা যেত এবং তাই করা উচিত ছিল। মনে হয় রিপোর্টকে অপব্যবহার করা, বা তার থেকে অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করার কামনা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে বর্তমান।

২. উত্তরায়নকে ঐতিহ্যময় ঘোষণা করা হোক এবং সাংস্কৃতিক মন্ত্রীত্যের অধীনে আনা হোক। 
মনে হয় এটা হয়ে গেছে। তাতে বাড়িগুলির রক্ষণাবেক্ষণ হয়তো ভাল করে হবে। বাকি কি উন্নতি হয় তা দেখার ইচ্ছে রইল।

৩. হাইকোর্ট বা সুপ্রীমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতিকে নিয়োগ করা উচিত বিশ্বভারতীর জমি যদি বেআইনীভাবে যদি চুরি বা বাজেয়াপ্ত করা হয়ে থাকে, তা দেখতে ও প্রতিকারে রপ্ত হতে।
এই কাজটি করা হয়েছে কিনা জানি না। কেউ কি বলতে পারেন ?

৪. এক আন্তর্জাতিক মানের বাসস্থান তৈরি করা হোক আমন্ত্রিত বিদ্বান ও পণ্ডিতদের জন্য।
এই যুক্তিটা পুরোপুরি মানতে পারলাম না। যেই বিখ্যাত গবেষকরা পেরু বা সাইবেরিয়া কি সাহারাতে গিয়ে ভাল কাজ করতে যান, তাঁরা কখনই ওখানে গিয়ে ওয়াল্ডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া বা তার মত পাঁচ তারকার (five star) হোটেল আসা করবে না। যা আসা করবেন তা বিশ্বভারতীতে বস্তুগত ভাবে আছে, হয়তো ছোটখাটো উন্নতি দরকার তাতে। যেখানে গন্ডগোল এবং ভীষণ ভাবে যা লক্ষিত হয়েছে, তা হল অমানুষিক অবহেলা, অতিথি অবমাননা, এবং  অতিথিযালার পরিচ্ছন্নতা, শুচিতা রক্ষার প্রতি চুড়ান্ত অমনযোগিতা। বিশ্বভারতী কি করে অতিথি সেবা করতে হয়, কি করে আগন্তুকদের বরণ করতে হয়, সাদর অভ্যর্থনা করতে হয়, কিকরে তাদের থাকাকে আনন্দদায়ক মনোরম করতে হয় - তা ভুলে গেছে। যারা অতিথিশালায় চাকরি করে তারা মাইনে নেয় নিশ্চই, কিন্তু অতিথি আপ্পায়ন কি বস্তু তা জানেই না। তারা ঘরগুলিকে পরিস্কার ছিমছাম রাখা তো দূরের কথা, জঘন্য অবস্থাশ রাখে। ঘরে ঝুল আর মাকড়সার জাল, বিছানার চাদর ছয় মাসে পাল্টানো হয়নি, তাতে ছোপ ছোপ দাগ। ঘরে গন্ধ। চানের ঘর তকতকে পরিস্কার নয়। দরজা জানলা ভাল করে বন্ধ হয়না, খোলে না। Internet’এর ব‍্যবস্থা নেই কিম্বা থাকলেও তার তত্বাবধানের কাজ যাদের তাদের দরকারে পাওয়া যায়না। সারা বাসস্থানে একটা নিদারুন অবহেলা ও অবক্ষয়ের ছাপ। রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা খুবই খারাপ, কারও মাথা ব্যাথা নেই রোজ দেখে যাওয়ার, গাফিলতি ঠিক করার বা কারোর ভুল শোধরাবার। বিশ্বভারতীকে আন্তর্জাতিক বাসস্থান দেবার কোনও দরকার নেই এখন।  দরকার তার নানা রকম গেস্ট হাউসগুলির সব রকম উন্নতি করা, তাদের মার্জিত করা, ছিমছাম পরিষ্কার করা এবং অতিথিদের সুবিধা অসুবিধার দিকে এখনের চেয়ে একশো গুন বেশি নজর দিতে শেখা। বিশ্বভারতীর ঘাটতি টি hardware’এ নয়, software’এ।
সত‍্য কথা বলতে গেলে - সারা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে software’এ গোলমাল - virus infected।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগগুলিতে নিজ নিজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ কর্মচারী নিযুক্ত করা হবে এবং তাদের পর্যাপ্ত পরিকাঠানো ও সাহায্য দেওয়া হবে যারা বর্জিতাংশ ও জঞ্জাল বিনস্ত করবে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে।
এখানেও আমি মনে প্রাণে এই সুপারিশকে মানতে পারলাম না। বিশ্বভারতীর লোকেরা গোপাল গান্ধিকে তাঁদের মত জানিয়েছে এবং তার মধ্যে দেখতে পাই লোকেদের চিরাচরিত চাহিদা - আরও দাও, আরও দাও। যেহেতু অবর্জনা দূর করা হচ্ছেনা ঠিক করে, সুতরাং সব বিভাগে অরও পাঁচটা করে লোক রাখা হোক যারা আবর্জনা কি করে দূর করা যায় দেখবে। এটা হল শুধু আরও লোকের চাকরি বাড়ানোর ধান্ধা, সরকারের কাছ থেকে কিছু কাজ না করে আরও আদায় করার ফন্দি, কাজ সমাধান করার নয়। অবর্জনা দূর করা, প্রকৃতিকে রক্ষা ও পালন করা সবার সন্মিলিত কাজ হওয়া উচিত, এবং এটা তাদের শিক্ষার অন্যতম প্রধান অঙ্গ হওয়া দরকার। এর মধে‍্য আবার বাঙালি মধ‍্যবিত্ত মনবৃত্তি দেখা যায় - নিজে কিছু কাজের হাত লাগাবো না - দরকার হলে আরও চাকর বাকর রাখা হোক - তারা কাজ করবে। এক কথায়, বিভাগ গুলির উচিত তারা আবর্জনা দূরিকরণও করবে এবং আরও লোক না নিয়েই করবে। এমনিতেই ওখানে চাকুরেরা গিজগিজ করছে কাজ না করেই।

৬. বৈদ্যশালা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সর্বাঙ্গিক উন্নতিসাধন দরকার।
এই সুপারিশ গুলি দেখলে হাসিও পায়, কষ্টও হয়। সব কিছুই সরকারের কাছে দাবি, অথচ স্থানীয় লোকেরা কিছুই করবে না, শুধু সরকারী টাকার অপচয় করবে। চিকিৎসালয়ের এমন দূরবস্থা কেন ? টাকার অভাবে না ফাঁকিবাজ সরকারি টাকা অপচয় করার লোকের প্রাধান্য হেতু ? হাসপাতালের উন্নতি না করতে পারলে ওখানের কর্মচারিদের ইস্তফা দিয়ে এমন লোকদের রাখা হোক যারা কাজ করতে জানে।

বিদ্যালয় সংক্রান্ত
৭. বিশ্বভারতীকে এমন সাহায্য করা দরকার যাতে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের সুবিধা বা সুযোগ সে পায়। কিন্তু একই সঙ্গে  একে রক্ষা করা প্রয়োজন গতানুগতিকতা, আঞ্চলিকতা, এত্যাদি থেকে, এবং পণ্ডিত নেহরুর চিন্তানুযায়ী বিশ্বভারতীর নিত্যনৈমিত্তিক ও ধারাবাহিক ক্ষয় থেকে।
বিশ্বভারতীর সাহায্যার্থে এখন দরকার downsizing, এবং অকাজের লোকদের সরানোর। এটাই প্রধান কাজ।

৮ ছাত্র ভরতি করার পদ্ধতিকে স্বচ্ছ করতে হবে।
এ বিষয়ে যা শুনেছি তা হল নিজেদের লোকেদের ঢোকানো হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অন্যান্য বিছার এড়িয়ে। এটা বন্ধ করার জন্য বলিষ্ঠ পদ নেওয়া প্রয়োজন।

৯ আসেপাসে আরও কেন্দ্রীয় ও নবদয় বিদ্যালয় খোলা দরকার স্থানীয় ছেলেদের জন্য যারা বাড়িতে থেকে আবাসিক ছাত্র হিসেবে শিক্ষালাভ করতে ইচ্ছুক। একই ভাবে রাজ্য সরকারের প্রয়োজন এই অঞ্চলে রাজ্য সরকার চালিত কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষায়তনের জাল প্রসারিত করা স্থানীয় চাহিদা মেটাতে। এই দুই প্রথাতে বিশ্বভারতী নিজ পাঠশালা ও মহাবিদ্যালয়ের সংখ্যার নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য বৃদ্ধি থেকে রক্ষা পাবে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদের শিক্ষালাভের অধিকারও পূরণ হবে।
এই কাজ খুব দরকার এবং তাড়াতাড়ি দরকার - এই নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন করা উচিত।

১০ বর্তমান অনার্স ও মাস্টার্স মাত্রার শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়াও, পাঁচ বছরের সংহত পাঠব্য্বস্থা ও বিষয়ের পরিকল্পনা করা দরকার। বিশ্ব-ভারতীর আরও নতুন বিষয়ে দক্ষ অধ্যাপক ও পণ্ডিতদের আনা উচিত যারা নতুন কাঠামো শিক্ষার কাঠামে তৈরি করবে শান্তিনিকেতনে।
এই বিষয়ে কিছু বলার নেই।
শ্রীনিকেতন
১১‍. শ্রীনিকেতন যেন আসেপাসের গ্রামাঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে উদ্ভাবক ও প্রগতিশীল আদান-প্রদানের এক যথার্থ মাধ্যম হয়, এবং সেই মাধ্যম অনুযায়ী শ্রীনিকেতন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির উন্নয়ন ও অগ্রগতির সহায়ক হয়।
এই বিষয়ে এত কম লেখা হয়েছে, যেন অনুচিন্তনের প্রতীক - নেহাতই লিখতে হবে তাই লেখা। শ্রীনিকেতনের কার্যকলাপ বিশ্বভারতী স্থাপনের এক প্রধান কারণ। তার সঙ্গে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা ছিল রবীন্দ্রনাথের অভিপ্রায় এবং তার পেছনে এক বৃহত সামাজিক কারণ আছে, আছে ছাত্রদের চরিত্রগঠনমূলক অভিপ্রায়। শ্রীনিকেতনের উন্নয়নের আবশ্যকতার সঙ্গে বিশ্বভারতীর কর্তব্য ওতপ্রত ভাবে জড়িত, এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে শ্রীনিকেতনের কর্তব্য তেমনিই ওতপ্রত ভাবে জড়িত।

১২. শ্রীনিকেতনের কৃষিবিদ্যালয় যেন কৃষি শাস্ত্রে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুষ্ঠানগুলির অন্্যতম হয়।
এই সুপারিশ কি wish list না উপদেশ, না সরকারের কাছে আবেদন, না নিজেদের কাজ করা হয়নি তার স্বীকৃতি? কৃষিশাত্রে বা যে কোনো বিষয়ে শিক্ষার মান কতটা উঁচুতে উঠবে, না নিচুতে থাকবে, তার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর হওয়া উচিত, সরকারের নয়। কৃষি বিদ্যার মান - অন্যান্য সব বিদ্যার মতই, নির্ভর করবে তাঁর শিক্ষক ও প্রশাসকদের চেষ্টা, নিষ্ঠা, গবেষণার ওপর।  এমন যেন না হয় যে এই সুপারিশের তালিকা ব্যবহার করা হোক এমন ভাবে যে বিশ্বভারতীর উন্নতি নামে শুধু সরকারের কাছে দাবিই থাকবে, কিন্তু লোকেদের নিষ্ঠা ও কাজের দায়িত্বর উল্লেখ থাকবে না।

প্রশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলা

১৩. বিশ্বভারতী কার্যক্রমে আবৃত্ত আয়ব্যয়ককের শতকরা কুড়ি ভাগ অর্থ ব্যয় করার চেষ্টা করবে বিশ্বভারতী উন্নয়নতালিকার কাঝ এগোতে।
একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন - শতকরা কুড়ি ভাগ না দশ ভাগ খরচ করা হবে উন্নতিকরণের পেছনে তার ওপর অধিক গুরুত্ব না দিয়ে দেওয়া উচিত অর্থ যেন অপচয় না করা হয়, চুরি না করা হয়, এবং উন্নতির নামে বিকৃত যুক্তি দেখিয়ে ভুল কাজে বা ভুল ভাবে অর্থের অপচয় না হয়।

১৪. একটি নতুন পোস্ট, Pro-Vice Chancellor’এর তৈরি করে উপযুক্ত ব্যক্তিকে ভার দেওয়া হোক।
এটা করা হয়ে গেছে।

১৫. Proctor’এর দপ্তর আবার সক্রিয় করা উচিত।
এই ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই, বক্তব্যও নেই।
-------------------------------------------------------------

এরই সঙ্গে হয়তো দরকার বিশ্বভারতীর মূল কর্তব্যগুলি পরিষ্কার ভাবে হেঁয়ালি ছাড়া লেখা যায় কিনা তার চেষ্টা করতে। লীনাদির মনে হয় ভারতবর্ষের সাংবিধানিক intellectual property rights’এর ওপর যে সুন্দর ধারা  আছে, যা লীনা দির মনে হয় হয়তো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠের অন্যতম। যদি তা ব্যবহার করা যায় তবে হয়তো সেই ব্যবস্থা অনুযায়ী বিশ্ব-ভারতীর জীবন্ত dynamic সৃষ্টি বিশ্ব-ভারতী শিক্ষানুষ্ঠানও তাঁর intellectual property’র মধ্যে পড়ে।  এই বিষয়ে খুঁতিয়ে দেখার সময় এসেছে। সেই property right আজ exercise করা যায় কিনা দেখা দরকার। লীনা দির ধারনা যায়।
বিশ্বভারতী act ১৯৫১ সালের এবং তার ১০৬০, ১৯৭১ ও ১৯৮৪’এর amendment’ও দেখা হয়েছে। চিন্তা করা হ’ল কি করা যায় এখানে, নাগরিক হিসেবে বা প্রাক্তনী হিসেবে। এই act’কে সংশোধন করা, বা বাতিল করা, বা এতে আরও কিছু দফা যুক্ত করা। নতুন দফা যদি যুক্ত করতে হয়, তবে তার পাঠ বা লিপি কি হবে, কে লিখবে?
ভাবলাম আমাদেরই উচিত এটা লেখা এবং সরকারের দৃষ্ঠি আকর্ষণ করা। শুধু বসে বসে অন্য লোককে নিন্দা না করে, নিজের ক্ষমতা ও বিচার অনুযায়ী, নিঃস্বার্থ ভাবে, যা সম্ভব তাই করা।
কিন্তু, ওপরের পনের টা সুপারিশ বার বার পড়ে, এবং চিন্তা করে, মনের মধ্যে একটা খটকা লাগছে - এই তালিকাটি সম্পূর্ণ নয় বলে। এই তালিকাতে যা আছে এবং যেমন ভাবে তা স্ফুরিত বা ব্যক্ত, তাতে মনে হয় অনেক দরকারি যুক্তি না বলা থেকে গেছে।
সুতরাং, HLC রিপোর্টের সুপারিশ তালিকার ওপর আমার মন্তব্য ছাড়াও, কতগুলি অত্যাবশ্যক যুক্তি ও বিচারও আলাদা করে লেখা প্রয়োজন মনে করি, এবং সেটা এই ব্লগের শেষে লিখবো আসচে দিন কয়েকের মধ্যে।
শুরুতেই যা লেখা দরকার তা হ’ল, বিশ্বভারতীর মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্যর সংক্ষিপ্ত তালিকা। বিশ্বভারতী কেন করা হয়েছিল এবং তার মূল কর্তব্য কি - সেটা মনে হয় অনেকের মনেই হেঁয়ালি আছে। আমি আমার বুদ্ধি অনুযায়ী বিশ্বভারতীর কর্মতালিকাতে তিনটি পদ লিখেছিলাম। তান লী দা তাতে একটি আরও যোগ করেন, চার নম্বর।
সেগুলো এবং তারই সঙ্গে আমাদের সুপারিশ, বিশ্বভারতী ও রবীন্দ্রশিক্ষা চিন্তা রক্ষা করার ও তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও লিখবো এখানে - একে একে।
আপনাদের বক্তব্য শোনার ইচ্ছে রইল। লিখতে অনুরোধ জানাচ্ছি এই ব্লগের তলায়। আমায় যদি email  করতে চান - tonu@me.com



এবার HLC রিপোর্ট ছেড়ে - লিখছি বিশ্বভারতীর পরিচয়, এবং কর্তব্য কি হওয়া উচিত, সে বিষযে আমার মত।

বিশ্বভারতীর পরিচয়
বিশ্বভারতী এমন একটি শিক্ষাকেন্দ্র যেখানে ছাত্র, শিক্ষক, বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের লোকেরা একে অন্যের জীবন সম্পর্কে সচেতন ও তাদের সুখদুঃখের  অংশীদার হবেন, এবং সন্মিলিত ভাবে সমাজকে অগ্রসর করার দায়িত্ব শিখবেন, এবং তারই সঙ্গে নিজেদের পেশা, জীবিকা, কারুশিল্প, শিক্ষার উন্নতিসাধনে রত হবে।

বিশ্বভারতীর কর্তব্য
  1. এক - বিশ্বভারতী দেশের সবধারার সংস্কৃতিকে গবেষণা করে জাতির গূঢ জীবনীশ্রোতকে জানার ব্যবস্থা করবে। তার জন্য বৈদিক, পৌরানিক, বৌদ্ধ, জৈন, মুসলমান প্রভৃতি ধর্মচিন্তা এবং তার সঙ্গে আদিবাসী জীবনচিন্তা গবেষণা করে তাদের সমস্ত সত্বার সন্মিলনে সারা ভারতবর্ষের প্রাণের ধারা কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে তা জানবে, এবং সেই ভাবে নানা বিভাগ ও বৈচিত্রের মধ্যে দেশের ও সমাজের সমগ্রতা উপলব্ধি করায় ব্রত হবে - সেই শিক্ষায় বিশ্বভারতীর ছাত্ররা দেশকে সম্পূর্ণরুপে জানতে, বুঝতে শিখবে এবং সেই সমাজবিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য অর্জিত বিদ্যা কিভাবে দেশ ও সমাজের উন্নতির জন্য প্রয়োগ করা যায় যাথাযত ভাবতে পারবে।
  2. দুই - নতুন বিদ্যা উৎপাদন হবে বিশ্বভারতীর মুখ্য বা প্রধান কর্তব্য।  সে শিক্ষা দান করা বা হবে দ্বিতীয় পর্য়ায়ভুক্ত, বা গৌন, কর্তব্য। বিশ্বভারতী তেমন মনীষীদের আকর্ষণ করবে, আহ্বান করবে, যারা নিজেদের সাধনা, প্রভা দ্বারা নতুন বিদ্যার অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের কাজে নিযুক্ত ও নিবিষ্ট আছেন। এরকম মনীষীদের বিশ্বভারতীতে একত্র করে এমন পরিবেশ গঠন করা হবে যা স্বভাবতই নতুন জ্ঞানের উৎস হবে এবং তার দ্বারা প্রভাবিত বিশ্ববিদ্যালয় শেখা বিদ্যার ওপর নব্য দর্শন, আবিষ্কার ও চেতনাকে সংযুক্ত করে দেশের জ্ঞানভাণ্ডারকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন দিগন্তের নতুন যুগের উপযোগী নতুন শাস্ত্র তৈরির কাজে সর্বদা নিযুক্ত রাখবে। এরই পরের বৃহত ধাপ হ’ল শুধু দেশেরই নয়, সারা প্রাচ‍্যের ও প্রাশ্চাতে‍্যর, তথা সমগ্র পৃথিবীর মানবচেতনার মূল উৎস সন্ধানের গবেষণায় রত হবে, ঠিক ঠিক মনীষীদের আকর্ষণ করার চেষ্টায় বিশ্বভারতী ব্রত থাকবে এবং এমন পরিবেশের সৃষ্টি ও রক্ষণ করবে যাতে আশ্রম যেন এক জগতব‍্যাপ্ত চুম্বকের ন‍্যায় সমস্ত পৃথিবীর নববিদ্যাসৃষ্টির অন্যতম কেন্দ্র ও তীর্থস্থান হয়।
  3. তিন - বিশ্বভারতীতে গঠিত ও বণ্টিত বিদ্যা এমন যেন না হয় যে তা বিদেশে অর্জিত বিদ্যার বিকৃত অনুলিপি মাত্র এবং শুধুই মধ্যবিত্ত সমাজের কেরানিগিরির উপযোগী মুখস্ত শিক্ষা। এই বিদ্যালয়ে আবিষ্কৃত বিদ্যা এমন হবে যা সরাসরি আসেপাশের গ্রামাঞ্চলের লোকেদের ও প্রকৃতির মান উন্নয়নের সহায় হবে। এইরুপ বিদ্যা আবিষ্কার হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মুখ্য কর্তব্য। এরই সঙ্গে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ শ্রেনীর ভদ্রলোক ও ধনীদের ভেতর যে নিচু জাতির বা গরিব ও দুর্বল জাতিদের প্রতি  ঘোর অবজ্ঞা আছে, তা মন থেকে ও জীবন থেকে  দূরীকরণ হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ, এবং এই প্রতিষ্ঠানের সবাই যেন নিজেদের জীবনের উদাহরণ স্বরুপ বহির্জগতের লোকেদের প্রভাবিত করাবে। এই বিদ‍্যালাভে ছাত্ররা যেন দেশকে ভালবাসতে শেখে এবং দেশের মঙ্গলে কাজে নামতে শেখে। দেশ থেকে দলে দলে পালিয়ে অন‍্যরাজে‍্য আশ্রয়ার্থী হয়ে দিন কাটানোর প্রচেষ্টাই যেন এই শিক্ষার মূল প্রযোজ্য পরিনাম না হয়।
  4. নাচ, গান, চিত্রকলা ও এইপ্রকার নানান সৃজনীশক্তি প্রকাশের রাস্তা খোলা রাখা বিদ্যালয়ের অন্যতম কর্তব্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূুল কর্তব্যগুলির বিকাশ ও সাধন উপলক্ষে নানান সাংসকৃতিক অনুষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে - তাকে বজায় রাখতে এই গান, নাচ, চিত্রকলার উতকৃষ্ট ব্যাবহার করা হবে - এবং এই অনুষ্ঠানগুলিকে শুধুমাত্র প্রমোদানুষ্ঠান হিসেবে অভিব্যক্ত না করে, সমাজে তার প্রয়োজনীয়তা কি, তার উপলব্ধি ও প্রচার হবে অন্যতম মূুল লক্ষ। এই জন্য এই সব অনুষ্ঠানে সারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের প্রয়োজন। শ্রীনিকেতনের অনুষ্ঠান যদি শুধু শ্রীনিকেতনের লোকেরাই করে এবং বাকিরা যদি তা দেখতেও না যায়, বা তাতে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ না করে - যদি সেটা নেহাতই একটি ছুটির দিন মাত্র হয়, বা বড়জোর কয়েক ঘণ্টার নাচ গানের জলসা হিসেভে ধরা হয়, যা সহরের মঞ্চের বদলে গ্রামের মুক্তাঙ্গনে পেশ করা হচ্ছে - তাহলে সে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। নৃত্য, গীত, চিত্রকলা যে শুধু শেখানোই হবে তা নয় - এই কলাশাস্ত্র আঠা স্বরুপ সারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র, শিক্ষক কর্মচারি, সব বিভাগকে একত্র রাখবে ও একে অন্যের কাজে সহায়তা করতে শেখাবে।
এই ভাবে বিশ্বভারতীর আদর্শ রক্ষা করা যায়, এবং এই ছোট তালিকা বিশ্বভারতীর সংক্ষিপ্ত পথনির্দেশক সূত্র হতে পারে





লিখেছিনু রামহনু নামতনু

Saturday, July 30, 2011

বিশ্বভারতীর নতুন প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান


জুলাইয়ের ৩০, ২০১১

শুনছি বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য চলে গেছেন তাঁর চুক্তিমূলক পাঁচ বছররের শেষে। আমরা কি কিছু বৃদ্ধিমূলক কাজে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে হাত মেলাতে পারি? শুনেছি নতুন উপাচার্য নির্বাচনের কাজ অনেক এগিয়েছে - এবং পদপ্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা বানিয়ে নির্বাচন সমিতি নাকি তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছে আজ শনিবারের দিন। খোশখবর ছড়াচ্ছে লোকের মুখে ও কিছু দৈনিক কাগজের মুখরোচক চুটকি রচনাতে। শুনছি তিন ব্যক্তির নাম নাকি সেই তালিকাভুক্ত - শ্রী উদয়নারায়ন বাবু, শ্রীমতি পিয়ালি পালিত, এবং শ্রীমতি সুরভী বন্দোপাধ্যায়।

যতদিন নতুন উপাচার্য ঘোষণা না হচ্ছে, ততদিন নাকি উদয়নারায়ন বাবুর ওপর সরকার ভার দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর। ভাবছি, নতুন প্রশাসনের সঙ্গে নতুনভাবে কি শুভকাজে হাত মেলানোর এবং মতবিনিময় করার জন্য এক পক্ষপাতশূন্য সমতল স্থান তৈরি করার আবশ্যকতা এবং সম্ভাবনা আছে কিনা।

শ্রীমতি বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ নেই, কিন্ত বাকি দুজনের সঙ্গেই আলাপ আছে। তাঁরা দুজনেই আমাদের ধারণায় খুবই কাজের লোক এবং শান্তিনিকেতনের জন্য উপযুক্ত হবেন। এখন প্রশ্ন হ’ল, আমরা যারা শান্তিনিকেতনকে দূর থেকে দেখছি এবং রবীন্দ্রনাথের প্রচেষ্টার কালোপযোগিতায় বিশ্বাস করি, যাঁরা নিজেদের সামর্থ মত শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতনকে আমাদের শ্রমদান করতে সম্মত এবং অনুরাগী ছিলাম, যারা বিশ্বভারতীর উপকার করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে নিযেদের গুটিয়ে নিয়েছি, তাদের কথা কি এই নতুন সহস্রাব্দের নতুন পরিবেশে শোনার মত কারুর সময় বা কৌতূহল থাকবে?

আমার ধারণা - থাকবে। তা ছাড়া Confucius তো বলেই গেছেন - সমস্ত কিছুই পাল্টাবে - পরিবর্তনই জগতের একমাত্র অপরিবর্তনীয় তত্ত্ব এবং তথ্য। তাছারা গুরুদেব’ও Confucius থেকে কম যান না - পরিবর্তন আসুক কি না আসুক, বলেছেন - যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।

যাই হোক, আমরা যদি আহ্বান জানাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিচালকগোষ্ঠীকে আলোচনায় বসতে, এবং তাঁরা যদি রাজি হয়ে যান, তবে সেখান থেকে এগোবার জন্য পরের পদক্ষেপের তালিকাতে কি থাকা উচিত?

মনে যেমন আসছে, লিখছি ঃ

  1. প্রথম কাজ হবে প্রাথমিক আলোচনায় বসা, কি কি বিষয়ে আমাদের বলার এবং জানার ইচ্ছে আছে তা প্রকাশ করার, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রত্যাশা আছে কিনা আমাদেরকে বলার, অনুরোধ করার, আমাদের কাছ থেকে জানার বা আমাদের জানানোর, তার খবর নেওয়া। তারই সঙ্গে এবং তার থেকেই বেরিয়ে আসা উচিত ভবিস্যতের আলোচনা আরও প্রসঙ্গবিষয়ক ভাবে করার কর্মসূচি। 
  2. আমাদের মধ্যে কে কে আলোচনায় বসতে রাজি, কাকে ডাকা উচিত, ইত্যাদি ঠিক করা একটা ব়হত কাজ, কিন্তু সেই কাজ বিশ্ববিদ্যলয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগেই স্থির করলে ভাল হয়। যেমন, Alumni Association’এর দায়িত্ব থাকা উচিত Alumni’দের প্রতিনিধি হত্তয়া, UGC’র নিয়ম অনুযায়ী। আশ্রমিক সংঘের দায়িত্ব হওয়া উচিত আশ্রমিকদের প্রতীক হওয়া রবীন্দ্রনাথের তৈরি ব্যবস্থা অনুযায়ী। দুই দলকে একত্র করে একই সংস্থায় পরিনত করা হয়তো অবস্্য দরকার, কিন্তু সে বোধহয় একদিনে করার মত কাজ নয়। সুতরাং, তারা দুই দলই আসুক, এরকম ব্যবস্থাই হয়তো ভালো হবে। কিন্তু তাতেও হচ্ছে না। আমার মনে হয় এই সব দল ছাড়াও, কিছু পরামর্শদাতা শ্রেনীর প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী হয়তে আছেন যাঁদের বক্তব্য এবং কাজের নথি হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং তার জন্য সংস্থাগত টিকিট ছাড়াই তাঁদের কথা শুনতে বা তাঁদের আলোচনায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় উতসুক হবেন। সুতরাং কিছু স্বতন্ত্র ভাবে আমন্ত্রিত ব্যক্তিও হয়তো থাকতে পারেন প্রাথমিক আলোচনায়। 
  3. কতজন হওয়া উচিত? এইটা একটা গোলমেলে প্রশ্ন। খুব বেশি লোক হলে কাজের বদলে হট্টগোল হবে। তাছাড়া, আমি কিছু মিটিংয়ে ছিলাম শান্তিনিকেতনের ব্যাপারে - দেখেছি মিটিংয়ের পর তার কোনো decision কাজে পরিনত করাতে আমাদের record খুবই খারাপ। আমরা কথা বলতে ভালবাসি, কিন্তু তার থেকে সতি‍্যকারের কাজে নামার ব্যাপারে আমাদের বেশির ভাগ লোকই অনুপযুক্ত। সুতরাং, প্রাথমিক আলাপ আলোচনা কিভাবে এগোবে এটা ঠিক করতে গিয়েই বাঙালি ডিগবাজি খেতে পারে। যাই হোক এটাও আরেকটা মহাকর্তব্য।
  4. একটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে বছরে একবার কি দুবার দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলের বসার সময়সূচি তৈরি করলে ভাল হয় 
  5. আমাদের কিছু করার আগে অনেক কিছু জানার আছে মনে হয় - বিশ্বভারতীর সবদিকের বিচারে কি অবস্থা, সরকারের দিক থেকে কি সুবিধা অসুবিধা, কর্মীদের দিক থেকে, অধ্যাপকদের ও ছাত্রদের দিকে - সবদিক জেনেই তবেই হয়তো পরামর্শ দেবার কথা আসে এবং সে পরামর্শের মূল্য থাকে। 
  6. গ্রামোন্নয়নের কাজ শুধু শ্রীনিকেতনের কর্মচারির দায়িত্ব নয় - এটা সবাইকার দায়িত্ব। বিশ্বভারতীর অস্তিত্বের একটি প্রাথমিক কারণ হল আসেপাসের গ্রামের উন্নয়ন প্রচেষ্টা, শিক্ষাকে গ্রাম ওবধি পৌঁছানো, গ্রামে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনা এবং গ্রামদের শহরকর্তৃক শোষণ বন্ধ করা। বিশ্বভারতী এর চেয়ে অনেক বেশি করতে পারে আদর্শ আশ্রমিক ও বিশ্বনাগরিক তৈরির কাজে - কিন্তু এর চেয়ে কম করলে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের অস্তিত্ব অবান্তর।
  7. একেকটা ভবনের সঙ্গে অন্য ভবনের কোনও সাংস্কৃতিক যোগ নেই, একের নৃত্যানুষ্ঠানে অন্যেরা গানে. নাচে, বাজনায় যোগ দেয়না - এই বিভাগমনভাব বন্ধ করতে হবে, 
  8. শিক্ষকরা তিরিশ মাইল দূর থেকে এসে কোনও মতে চার ঘণ্টা ক্লাস করে একবেলা হাজিরা দিয়ে পালাবেন - এ চলবে না। ছাত্ররাও বলতে পারবেননা তাদের subject ছাড়া আর কিছু তাদের পড়ার বা জানার নেই। ভোরের বইতালিখ থেকে খেলার মাঠ ও সাহিত্য সভা যারা করতে নারাজ, গ্রামের কাজে যারা সময় দিতে অনিচ্ছুক, তাঁরা বিশ্বভারতীতে চাকরির অযোগ্য এবং ওখানে পড়ার অযোগ‍্য। UGCকে, শিক্ষামন্ত্রীকে এবং এবং আচার্যকে একথা জানানো দরকার, তাঁরা যদি এবিষয়ে ওয়াকিবহাল না থাকেন।
  9. বিশ্বভারতী কেবল স্থানীয় কর্মীদের ছেলেমেয়েদের চাকরি জোগাড় করার জন‍্য শিক্ষাববস্থা নয়। বীরভুম, বাংলা, ভারতবর্ষ তথা বিদেশের যোগ‍্য ছেলেমেয়েরা যাতে আসে তার জন‍্য কাঠখড় পোড়াতে হবে এবং স্থানীয় বাধা হটাবার ব‍্যবস্থা করতে হবে। তেমনিই, এই বিশ্ববিদ‍্যালয় তৈরি করা হয় সামস্ত পৃথিবীর অনুপ্রেরণার উৎস এবং নীড়ের যোগান দেবার জন‍্য, শুধু বোলপুর বীরভুমের স্থানীয়দের মধে‍্য চাকুরে সংখ‍্যাবৃদ্ধি উদ্দেশে‍্যই নয়। ছাত্র ও চাকুরি selection পদ্ধতি থেকে ভ্রষ্টাচার ও জবরদস্তি হটাতে হবে।
  10. বিশ্ববিদ‍্যালয়কে অনেক খানি downsize করতে জবে - ফালতু বিভাগগুলিকে প্রয়োজন হলে বন্ধ করে। non-teaching staff সংখা কমাতে হবে।
  11. রাজনীতির স্থান বিশ্বভারতীতে নেই - এই পদ্ধতি চালু করতে হবে ও বজায় রাখতে হবে। স্বজনপোষন বন্ধ করতে হবে।
  12. আমারা অনেকই সময় কাটিয়েছি অন্যদলের দোষ বিচার করে। এবার প্রয়োজন নিজেদের দোষ বিচার করা - self assessment। শিক্ষকরা নিজেদের, ছাত্ররা নিজেদের, প্রশাসকদল তাদের এবং আমরা, প্রাক্তনীরা আমাদের গলদ কি কি তার বিচার তালিকা বানাবো। আমার ধারণা প্রাক্তনীদের দোষের তালিকা সবচেয়ে লম্বা - তবে তা ঠিক না ভুল তা দেখা দরকার।  আমাদের শেখা প্রয়োজন নিজেদের ভুল আগে উপলব্ধি ও স্বীকার করতে, ভুল শোধরাতে, তারপর না হয় পরের ভুল ধরিয়ে দিতে সাহায্য করার কথা চিন্তা করা যায় - ইংরাজিতে যাকে বল - charity begins at home।
  13. শোনা যাচ্ছে বহুবছর ধরে নাকি দিশ্বভারতীর অভ্যন্তরীণ শাসন - সম্বন্ধীয় ও অন্যান্য সভা ও বৈঠক নাকি আর শান্তিনিকেতনে হয়না - কলকাতাতে হয়। এটা কেন প্রশ্ন করতে হবে, এবং বিদ্্যালয়ের সময়, ব্যয় ও পণ্যের অপব্যাবহার বন্ধ করা প্রয়োজন।  যিদ্যালয়কে হয়তো মিতাচার ও সংযম আবার করে শিখতে হবে। সভাস্থলের হাওয়া বদল যদি অভিপ্রায় হয়, তবে শান্তিনিকেতনের গণ্ডির বাইরে শ্রীনিকেতন, বিনয়ভবন, গোয়ালপাড়া, রায়পুর, সুরুল, ভুবনডাঙা, সিয়েনডাঙা, বাঁধগোড়া প্রভৃতি আসেপাসের অঞ্চলে সভার ব্যবস্থা করে ও তারই সঙ্গে পল্লী পরিভ্রমন করে সেখানের লোকের সুখদুঃখ এবং সেখানে বিশ্বভারতীর কর্মযোগ কতটা কার্যকর, এই সব স্বচক্ষে দেখে নিলে সব দিকদিয়েই ভাল হয় - এইরকম চেষ্টার হয়তো বিশেষ দরকার।
  14. বিশ্ববিদ‍্যালয়ের বাতসরিক নিরীক্ষা (audit) করার সময় এটাও বিচার করতে হবে চার পাসের গ্রামের উন্নয়য়নের কাজ এগিয়েছে কি এগোয়নি - এবং তার মাপকাঠিও ব‍্যবহার হবে বিদ‍্যালয়ের যোগ‍্যতার পরিমাপ হিসেবে।
  15. এরকম হতে পারে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকেদের ইচ্ছে থাকা সত্যেও বাধা আসছে সরকার থেকে, কারণ বিশ্ব-ভারতীর কার্যকলাপ তাঁদের প্রমিত নিয়মের বাইরে পড়ছে। সেরকম যদি হয়, তবে সকলে হাত মিলিয়ে চেষ্টা করতে হবে সরকারকে আবার করে বোঝানো বিশ্ব-ভারতীর বিভিন্নতা কেথায় এবং কেন তার প্রয়োজন। তবে সেটা তখনই করা যায় যখন বিশ্ব-ভারতী নিজের দিকের অসঙ্গতিগুলি শুধরেছেন। নিজে কিছু না করে শুধু সরকারকে দাবি জানানোটা অবিধেয়।
কথায় কথা বাড়ে - তাই এর বেশি না লিখে - এটাই উদয় নারায়ন বাবু আর পিয়ালিকে পাঠানের ব্যবস্থা করলে কেমন হয়? জানি না কে হবেন সুতরাং দুজনকেই পাঠালে, যাকে বলে covering both the bases হয়ে যায়। তবে, তাতেও বাকি থাকেন শ্রীমতি সুরভী বন্দোপাধ্যায়। তাঁর কাছে কি করে আমাদের বার্তা পাঠানো যায় তার উপায় কে বলতে পারেন?

আমি আজ সকালের আড্ডায় নানা লোককে এই প্রশ্ন করেছিলাম, তাদের বিচারানুযায়ী তালিকা বানাতে, নতুন প্রশাসনে আমাদের দিক থেকে কি কি ব্যাপারে হাত মেলানো উচিত মনে করি তার তালিকা বানাতে। সেগুলে পেলে একত্র করে, আরেকটু সংগঠিত এক সূচিপত্র পেশ করা যায়।
 -------------

এ তো হ’ল সিরিয়াস কথা। এবার লঘুরসে আসা যাক। একটা গুজব রটালে কেমন হয় শান্তিনিকেতনে, যে, উপাচার্য যেই হন, অামরা শুনেছি প্রথমেই এক প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমান উচ্চপদস্থ বাবুর দরকার সুটকেস জোগাড় করা, কারণ পনেরো দিনের মধ্যেই ওঁকে নাকি পাঠানো হচ্ছে নতুন পোষ্টিংয়ে - পিচকুড়ির ঢালের CGCO হ’য়ে? CGCO কি জানতে চান? Chief Goat chasing Officer - কারণ পিচকুড়ির ঢালে নাকি বাগান থেকে ছাগল তাড়ানো ছাড়া তাঁর উপযুক্ত আর কোনও কাজই পিচকুড়ির human resource ভবন খুঁজে পায়নি। তবে শোনা যাচ্ছে যে ঝাপটের ঢালে নাকি আরও কিছু পরিবর্তনশীল কর্মতালিকা পাওয়া গেছে, ছাগলের বদলে গরু, মহিষ, ভেড়া, শুকর প্রভৃতিকে নিয়ে।

এই শেষের ভাগটা ঠাট্টা করে লেখা, so don’t get ballistic!

এই লেখাটি অসম্পন্ন - সুতরাং দিনে দিনে ভারত সরকারের ভ্রষ্টাচরণ তালিকার মত এটাও বাড়বে - যদিও ভ্রষ্টাচার এর উদ্দেশ্য নয়। উদ্দশ্য শুভ কাজের সন্ধান।

ইতি লিখেছিনু রামহনু নামতনু



ও মন ব্লগেতে কাঁঠালের আঁঠা, সে একবার লাগলি পরে ছাড়বে না
গোলেমালে গোলেমালে ব্লগিং কোরো না

Monday, July 11, 2011

My thoughts about my grand father.

Monday, July 11, 2011
It has not been comfortable for me to contemplate writing about my grand father. Firstly I did not, and still do not, consider myself really qualified to speak about the life and times of Kalimohan Ghosh, except to reminisce as a relative. But then, he died ten years before I was born, so there is really no question of having any direct memory of him.

But, I remember my mother talking about him. I remember her mentioning with regret, that his children and her brothers, some of whom were well established and accomplished as writers and journalists, and many of them champions and promoters of Rabindranath’s creative vision, did not take it upon themselves to highlight this important and inspirational persons silent work behind the scenes with the downtrodden and the out of site people living in villages surrounding Santiniketan.
It eventually became clear to me, that among all the children of Kalimohan Ghosh, of which seven reached adulthood and one died soon after birth, my mother was the closest to Kalimohan, and felt the loss of him the most. My mother did not consider herself gifted like her brothers, and did not feel qualified enough to write about her father. However, she was eventually driven to write, in absence of her brothers doing so, a lengthy article in the women’s magazine “Sreyashi”, a copy of which she sent to me. That had become one of my important introduction and reference point to my grand father, Kalimohan. Clearly, my mother idolized her dad and at the same time considered him as her true friend, guide and moral pathfinder, and losing him at the tender age of 15 was an indelible scar in her life. Even in her late years my mother often mentioned her father and wished he would guide her with his moral compass through trying times.

That moral compass played a big role in Kalimohan’s life and it left its mark on my mother, who also inherited my grandmother’s stubbornness and willpower. I now understand that my grandfather had acquired most of the strength of his convictions through Rabidnranath Tagore, particularly about the need to eliminate barriers people had erected between themselves in India over centuries and millennia of accumulated dead habit and selfishness. This involved caste barriers among hindus, religious barriers between Hindu, Muslim and other faiths, and ethnic barriers between mainstream Indians and the aboriginals and marginal people. Kalimohan had understood that the “root cause” of the inherent weakness, division and injustice in India, which made it possible for outsiders to rule this grand nation, was established on falsehood, but that the practice was deep rooted and would need enormous effort to eradicate. Lecturing people will not work. Promoting one’s own system and trying to convert others into it will also not do.

There would be a need to set example with their own lives, Tagore’s, Kalimohan’s and everyone else that joins this grand experiment, that they are above the smallness of such barriers. There would be need to rebuild trust between people, trust that had been missing for centuries.

Tagore was like a father figure for Kalimohan, who lost his own father very early in life, and was a rudderless teen when he was tending to fall prey to a violent form of Swadeshi, where one might physically create or support violence against the ruling British Raj, in order to drive them from India. A chance encounter with Rabindranath Tagore, in his thirties at the time, altered Kalimohan’s life. Rabindranath had spoken to him and shown him the real “root cause” because of which it was possible for a handful of Englishmen to exploit India, while Indians enjoyed perhaps a five thousand fold numerical advantage. If this root cause, the social evil that divides people, could be removed, and Indians joined hands with each other, there would really be no need to push the British out. They would go willingly and as a friend would interact thence with India as equal partners in a world of equal humans.

There is another angle that I would like to add here. The work done by my grandfather first in the Tagore estates in todays Bangladesh and later around Santiniketan really are efforts towards economic reorganization of the land, and finding a balance between both man and nature, as well as urban and rural communities. Rabindranath Tagore had realized, through his study of Indian history, philosophy, and study of the west, and applying that knowledge through his analytical mind, that India’s salvation did not lie in either merely aping the west or falling back on the orthodoxy of a divided nation. More profoundly, he had realized that  the real source of all of India’s philosophical and spiritual strength and creative zeal came primarily from a rural environment. The Urban centers  were for creation of material goods and there was a healthy exchange between machined goods from the cities and towns and agricultural produce, goods created by rural artisans as well as social, spiritual and cultural creativity from the rural areas. Quality of life in the past, was different but equal in the urban and rural landscape. This was no more the case, as India had changed to adopt a twisted version of the western economic model, whereby the Urban centers exploit the rural masses, impoverishing them both materially, economically, spiritually and culturally.
There would be a need to correct this imbalance and it was going to be a long and arduous task, requiring a multifaceted effort. There would be a need to re-evaluate our economic roadmap, our vision for the future. New studies in sociology and a deeper understanding of the varied people of this land would be needed. India may have to undertake complete reconstruction of her national economic and cultural infrastructure.

Tagore had realized that for a country that was colonized, this task was not going to be easy and not going to be funded by the Government. Therefore, he tried within his means, and with like minded people, to identify what could be done with limited resources and manpower, that might set a process and an example, showing the way for the future generations.  He knew India was going to be politically free one day, perhaps after he was gone.

To that end, rural reconstruction meant more to Tagore than just making a few roads, setting up a few schools, opening a few medical facilities and showing them better hygiene or ways to realize higher yield for their crop. All that was important. But to Tagore, the underlying need would be for the villages to no more feel underprivileged, and disadvantaged compared to the urban folks. The village life had to be fulfilling enough so that they can feel proud of their lives and have enough affluence so that they can have some leisure in which to engage in nourishing the rich cultural heritage of the nation, adding more folk value into our lives. The villages needed to get their dignity back and the relation between the Urban and the Rural had to be a symbiosis of equals and not one of an exploiter and exploited.
This was a work Tagore had figured would be task of the new generations to accomplish. He had no illusion that this was going to be very very hard to do, and simply copying the west was not enough. One would need all the help it could get, but one would have to find unique solutions, and create new path where none existed. Most importantly, it would need experimentation to see what works and what does not.

He found stalwarts that believed in his vision and came from near and far to join hands, some temporarily and some for their entire lives.

My grandfather, Kalimohan, was converted into this vision as a wayward teenager, and remained the worker behind Tagore’s vision on rural reconstruction till he died. Almost twenty years his junior, Kalimohan died a year before Tagore did, leaving behind a wife, six sons, and a star struck daughter of 15 that lamented his loss for the rest of her life.

Other than my mother, there was one more person that spoke to me often enough about Grand father, and that was my grand mother, Manorama Ghosh. She outlived her husband by some forty years, and spent long hours with me speaking with her when I was in my twenties and thirties. I remember most of those conversations, and intend to jot them down by and by.

Appreciate your comments or suggestions.
Santanu Mitra

Monday, July 4, 2011

তান লী দা, মাইকেল কিস্কু, সুদেষ্ণা এবং অামার ছড়া

অামেরিকাতে অাজ ছুটি। এখানে, ক্যানাডাতে অপিস খোলা। ভোরে ভোরে উঠে সুদেষ্ণাকে airport’এ পৌঁছে দিলাম। চার দিন অামাদের সঙ্গে কাটিয়ে ও অন্টারিও গেল গান গাইতে। চারটে দিন সুন্দর কাটলো। গাড়ি করে নানা দিকে যাবার পথে অামরা গান শুনলাম iPod থেকে এবং অালেচনা করলাম, রবীন্দ্রচিন্তা, বিশ্বাচিন্তা, ভবিশ্যত চিন্তা সব কিছু।

সুদেষ্ণার একটা অনন্য ব্যাপার হল, ওর পেশা একদিকে গনিত এবং অন্যদিকে ভারতীয় সঙ্গীত। ওয়াশিংটনে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চধাপের অংক শেখায় - অাবার অন্য দিকে সে ভারতীয় রাগপ্রধান গানের শিষ্যা ও রবীন্দ্রানুরাগিনী।

সুদেষ্ণা এই দিকে একেবারে যে একা তা নয়। শৈলজাদা ছিলেন রসায়ণের লোক। প্রশান্ত মহালানবিস ছিলেন স্টাটিস্টিক্সে পন্ডিত, তান লী দা ইঞ্জিনিয়ার - খুঁজলে নিশ্চই অারও এধরনের রবীন্দ্রানুরাগী পাওয়া যাবে, যদিও সবাই বিখ্যাত হয়তো নন। ডাক্তার তাপসদা’র (বসু) কথা মনে অাসে।

তারপর অাবার শনিবার বাড়িতে একটা পঁয়তাল্লিশ জনের জলসা। সে এক হৈ হৈ ব্যাপার। শুনলাম ওর ভুপালের সঙ্গীত গুরুদের কথা - এবং সুদেষ্ণা শুনলো অামার ছেলেবেলার স্মৃতি নিয়ে লেখা কবিতা। অামি সাধারণত মজার ও হাসির কবিতা ছাড়া লিখিনা। তবে ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গেলে তাতে হারিয়ে যাওয়া নিকটাত্মীয়দের কথা মনে অাসে এবং হাসির সঙ্গে অাসে চোখের জল। তার একটা উদাহরণ এখানে তুললাম।

সন্ধ্যে বেলায় একলা বসে ভাবি ঘরের কোনে
এজীবনের এত কথা, যাত্রা ক্ষণে ক্ষণে
সবাই যেন দিয়ে ফঁাকি
হেথায় অামায় একলা রাখি
হারিয়ে গেল ঔ অঁাধারে শিরিষ ঝাউয়ের বনে

মনে পড়ে ছোটবেলার বিনয়ভবন মাঠ
উঠোনেতে ঘঁুটেওয়ালা - উনুন জ্বালার কাঠ
দিদার হাতের তালের বড়া
মাদুরে অামসত্ত করা
রাতের ঘুমে জানলা দিয়ে বৃষ্টি জলের ছঁাট।

ভাইফঁোটার দিন মা অাঁকতেন উঠোনে অালপনা
বড়মামার নতুন রেকর্ড ’ও ভাই কানাই’ শোনা
দুপুরবেলা শুয়ে একা
দেওয়ালে টিকটিকি দেখা
পূজোয় অাঁখির নতুন ফ্রক অার অামার জামা গোনা

কোথায় সেকাল ফুরিয়ে গেল, সবাই গেল হারিয়ে
অামিই দেখি রইনু বাকি - এই পাড়েতে দঁাড়িয়ে
স্মৃতিগুলি সন্ধ্যাবেলা
অামায় নিয়ে করছে খেলা
বাবার ছবি, মায়ের মুখ অার অাঁখির হাসি জড়িয়ে॥

তনু


স্বাতি, বাপ্পা, মুনমুন, তনয়া, মিমি, অনন্যার বাবা - এরা সবাই সেদিন বাড়ির জলসাতে গান করলো। সুভময় বাবু দারুন তবলা বাজালেন। বাপ্পা অার স্বাতি তো বহুগুনের গুনী। সুতরাং ওরা গান ছাড়াও পাঠ এবং audio নাটকও করতে পারে। স্বাতি এবিশয়ে বিশেষ পারদর্শিনী। খুব জমেছিল।

অন্যঘরে একটু কম অাওয়াজে শান্তিপূর্ণ অাবহাওয়ায় অাড্ডাতে শঙ্করকে সঙ্গ দেন কেউ কেউ। তার মধ্যে ছিল কলকাতা থেকে পর্যটক তনয়ার ভাই। অার অন্যদিকে তনয়ার মার কাছে তাঁদের পানের বরজের গল্পটা খুব উপভোগ করেছি। এরই ফাঁকে অামিও লোকদের অামার কিছু ছড়া শোনাতে ও অাঁকা ছবি দেখাতে ছাড়িনি। মনে হ’ল লোকেদের পছন্দ হয়েছে অল্প বিস্তর। ছড়ার বিষয় ছিল ছোটবেলার স্মৃতি থেকে দেশে anti-corruption নিয়ে চ্যাঁচামেচি, CPM এর পশ্চিম বঙ্গে ঘটি উল্টনো, হঠাৎ বনবাঁদাড় থেকে বেরিয়ে অাসা গুচ্ছের সদ্য জাগরিত এবং নিজের ঢাক নিজেই পেটাতে ব্যস্ত রবীন্দ্র পন্ডিতদের নিয়ে। একটা উদাহরণ রইল এখানে।

অ্যান্টি-কোরাপশান

ঘুষের রাজ্য হ’ল অপরিহার্য - এটা ভ্রষ্টাচার্য নেতা বলছে ভাই
ভুত-নীতিজ্ঞ যত কূটনীতিজ্ঞ জুটে লুট-নীতিজ্ঞ বনে চলছে তাই
বলির যুদ্ধে নামে কলির বুদ্ধ, তাতে গলির ক্রুদ্ধ লোকে হাত মেলায়
ঢংয়ের মামাটি বেঁটে - সংয়ের জামাটি সেঁটে, রংয়ের ধামাটি এঁটে দাঁত কেলায়॥

তনু


কিন্তু বাড়ির জলসা নিয়ে লেখার জন্যই কি এই ব্লগোথেরিযামকপ ধরেছি? নাকি অামার ছড়ার বানী প্রচার করতে? কোনোটাই নয়। তবে কি নিয়ে লিখবো ঠিক করার অাগেই লেখা শুরু করে দিয়েছি - এটা অামার একটা প্রাচীন বদভ্যেস।

যা হোক, World Poetry Reading বলে একটি non-profit দল অাছে - যার ভ্যানকুভারের দলনেতারা রবীন্দ্রনাথের সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে মাস দুয়েক বাদে একটা সারা দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান করতে চায়। তাতে অমাদের যোগ দেবার ব্যাপারে কথা বলতে ডিউক, রুবি, ও অামি ওদের সঙ্গে একটা প্রাথমিক অালোচনায় বসলাম। মজার ব্যাপার হল সুদেষ্ণা খবর পেয়ে উৎসাহিত হয়ে চলে এল অামাদের সঙ্গে। অারেক দিন ওর সঙ্গে বসতে হবে, তান লী দা অার লীনা দিকে নিয়ে। অার পিয়ার বান্ধবি জিয়ানহুয়ার সঙ্গেও কথা বলতে পারলে ভালও হয় এই বিষয়ে। তাই তাকে একটা চিঠি পাঠিয়েছি। অাজকাল চিঠি বলতে ই-মেইল।

অাসচে সপ্তাহে ডিউক ওদের সঙ্গে রিচমণ্ড সহরে অনুষ্ঠান মঞ্চ দেখে অাসবে। অামি কাজের মধ্যে যেতে পারব না। দেখা যাক কি হয় এবং কতদূর অামরা অামাদের দিকের কল্পনাকে রুপ দিতে পারি এঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে - তবে গতানুগতিক গান নাচও তো অনেক হল - অন্য কিছু করার চিন্তা অাছে।

ভাবছিলাম কত ভাবে কত লোক রবীন্দ্রনাথকে ভাঙিয়ে অাজও খাচ্ছে এবং কি অাশ্চর্য ভাবে গুরুদেব এই একটি নতুন প্রকারের চিরস্থায়ী শিল্প তৈরি করে গেলেন বাঙালীদের জন্য। অাবার এও মনে হয় - রবীন্দ্রনাথ এই শিল্প তৈরি করে গেলেও, তার সম্পূর্ণ অবদান অামরা না পেরেছি বুঝতে, এবং না পেরেছি সেই বানীর রুপায়ণে হাত মেলাতে। হাতে রইল পেনসিলের মত রইল শুধুই গান এবং নাটক - যার বানী বোঝার প্রয়োজন রইল না, এবং তারই সঙ্গে রইল না অামাদের সমাজ উন্নয়ণের মহাযোজ্ঞে লাগতে। শুধু জলসা শেষে হাত তালি অার সাধুবাদটাই থেকে যায় - রবীন্দ্রনাথের বানীর এক বিকল প্রতিধ্বনিরুপে। এটা যেন রবীন্দ্রচরিতামৃতপালার এক ব্যঙ্গধর্মী বিয়োগান্তিক যবনিকা। সঙ্গীত পেশ হবে দামি টিকিটওয়ালা স্টেজে,  পয়সাওয়ালা লোকেরা তা শুনবেন, বিজ্ঞ সঙ্গীতশ্রোতারা মাথা নেড়ে বাহবা দেবেন। অার নেপথ্যে গুরুদেবের অাত্মার অশ্রুপাত অজ্ঞাত রয়ে যাবে জনসাধারণের কাছে।

লীনাদি বলেন এই সব নিয়ে অামার কবিতা লেখা উচিত - ভাদুগান তৈরি করা উচিত, এবং ছড়া লেখা। ভারতের অন্য ভাষার রবীন্দ্রানুরাগীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নানা ভাষায় তার প্রচারে যুক্ত হওয়া উচিত। লীনাদি অামাকে সামর্থাধিক উচ্চ সৃষ্টিশীলতার মঞ্চে তুলেছেন, সেটা নিজেই বোঝেননা। একেই বলে অন্ধ স্নেহ।

এই সব চিন্তা নিয়ে কাটছে। ইদানিং কালে চারদিকে গিজগিজ করে অাগাছার মত গড়ে ওঠা রবীন্দ্র পন্ডিতদের নামে অারেকটি ছড়া লিখেছিলুম - সেটা তোলা হল এখানেঃ

উথলে পড়া রবীন্দ্র-প্রেম
ফিচকে ফাজিল মিচকে যত হেঁচকি তোলা মিটমিটে
কুঁচকি বাঁকা পুচকি শেয়াল গাইছে খেয়াল চিটচিটে
হ্যাংলা বুড়ির প্যাংলা ছুঁড়ির ফোকলা হাঁসির ঝিকমিকি
রবির প্রেমে ছবির ফ্রেমে ঝোলায় বাসি টিকটিকি
তনু

তবে লীনাদির একটা কথা মনে ধরেছে - রবীন্দ্রবিষয়ক ছড়া। গিজিগিজ করা রবীন্দ্রপন্ডিতদের ছেড়ে রবীন্দ্রনাথের দূরদৃষ্টিতা এবং অামাদের দূরদৃষ্টিহীনতা নিয়ে, বা তাঁর সমাজচিন্তা, মানুষের মধ্যে ধর্মীয়, জাতীয়, ভাষাবিদ, পেশাগত ভেদাভেদকারণে সমাজের ক্ষুদ্রতা দূরিকরণ, এইসব নিয়ে কি ছড়া লেখার ক্ষমতা অাছে অামার? এ নিয়ে চিন্তা করা প্রয়জোন এবং তার সাথে কিছু পরীক্ষামূলক চেষ্টারও হয়তো দরকার। হাঃ, ভাবতেও মজা লাগছে - তনু নাকি লিখবে দেশের জাতিধর্মভেদ নিয়ে সামাজিক ছড়া, তাও অাবার রবীন্দ্রচিন্তানুসরণে! পাগলামিরও একটা সীমা থাকা দরকার।

ইতিমধ্যে বামপন্থিদের ত্রিশ বছরের ভন্ডামির পর মমতাদির হাতে ওদের কাছা কোঁচা খুলে গো-হারা হারের পর সেই অনেক অাগে লেখা কবিতায় শেষ লাইনটা জুড়ে দিয়ে লিংেছিলুম ঃ

CPM বুলির ভর্তি ঝুলি

মামারা সব ধামা ধরে - লাল সেলামি জামা পড়ে
জাতিনষ্টের ম্যানিফেস্টো - চেটে দেখে বেঁটে কেষ্ট
হাঁউ মাউ করে জ্যোতি মামা - বগলে CPM-নামা
ভেঙে সমাজের কাঠামো - পার্টি কেডারের জ্যাঠামো
বেঁকা রাজ্যের খ্যাঁকা মন্ত্রী - বেকার কাজের ন্যাকা যন্ত্রী
বামের নামের ভন্ড ঝুলি - তোতাপাখির শেখা বুলি
“চলবে না চলবে না” - অার কিছু সে বলবে না
স্বাধীন চিন্তায় অন্ধ কালা - কারখানাতে ঝুলিয়ে তালা
বাঙালীদের ব্যাবসা মেরে - বেচে দেন অবাঙালীরে
বাইরের লোককে লুকিয়ে এনে - ভোটের লোভে ঢোকায় বনে
সিঁদ কেটে সে কুমির ডাকে - ম্যানিফেস্টের বুলির ফাঁকে
সমাজচিন্তা শেখেনি - বহির্জগত দেখেনি
ম্যানিফেস্টো কাঁধে করে - পার্টির কুলি দৌড়ে মরে
এঁড়ে তক্কে কাঁচা লঙ্কা - সতকাজেতে লবডঙ্কা
যাচ্ছেতাই সব বিধির সাথি - খাচ্ছে তাই অাজ দিদির লাথি
তনু

শান্তিনিকেতনের অাদর্শ অাশ্রমিক হিসেবে অনেকে অনেক লোকের নাম নেয়। অামি ভুলুমামা, তান লী দা এবং মিষ্টুনিদির নামও শুনেছি, এবং শুধু অতুলনীয়তার দিক দিয়ে বিচার করে ব্রতীন সেনকেও অামি তালিকা ভুক্ত করি। কিন্তু, যদি শুধু গুরুদেবের বিশ্বমানবচিন্তাসূত্র ধরে তাঁর শান্তিনিকেতনে পৃথিবীর উপযুক্ত নাগরিক তৈরি প্রচেষ্টার সফল উদাহরণের খোঁজে বেরোই, তবে মনে হয় দৃষ্টি খরশান রেখে তেমন লোকদের খুঁজতে হয় যারা রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন না থাকলে ঐ মানবচিন্তার দৃষ্টান্ত হ’য়ে নাবালক থেকে পরিনত মানুষ হতেন না। এই অন্বেষণে অসংখ্য অাশ্রমিকদের ভিড়ে দুজনকে স্বীকৃতিদানের প্রয়োজন দেখি। তান লী দা এবং মাইকেল।
তান লী দা

তান লী দার জন্ম চীনদেশে চীনা পিতামাতার ঘরে। কিন্তু গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ বহু বছর ধরে এক দ্বিধাহীন প্রচেষ্টা চালিয়েছেন চীন ও ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যা পরবর্তী কালে ছিন্ন হয়েছিল, তাতে পুনরায় প্রাণসঞ্চার করা। সেই প্রচেষ্টা অবলম্বন করে তিনি চীনা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অধ্যাপক শ্রী তান ইয়ুন শানকে অাহ্বান করেণ শান্তিনিকেতনে এসে চীনা ভবন তৈরি ও চালানোর কাজে যুক্ত হতে। সেই সূত্রে তান লী দার ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনে অাগমন। অনেক বিদেশিই এসেছেন এবং রাবীন্দ্রনাথের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন নানা কর্মযোগে। কিন্তু তান লী দার মত নজির হয়তো অার নেই যারা বিদেশ থেকে এসে বড় হয়েছেন রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এবং যাদের অাত্মবিকাশে রবীন্দ্রনাথের মানবচিন্তা হ’য়ে ওঠে জীবনের ধ্রুবতারা, যাদের স্বাত্মিক পরিচয় এত সম্পূর্ণ ভাবে অনুপ্রাণীত হয় রবীন্দ্রনাথের মনশ্চক্ষুতে দেখা অাদর্শ শিক্ষায়তনদ্বারা - যত্রবিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম - যা হবে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চেতনা ও উদ্দীপনার নীড়, যেখানে মনুষ্যজাতির সর্বোচ্চ চিন্তাধারা পুষ্টি পাবে দৈনন্দিন। তান লী দার মতন অারেকটি উদাহরণ অামার মনে হয় নেই, এবং কোনও দিন হবেও না অার।

মাইকেল মধুসুদন কিস্কু জন্মেছিল এক সাঁওতাল পরিবারে, শান্তিনিকেতন থেকে দূরে। তার বাবা ছিলেন সূত্রধর - কাঠের কাজ করতেন। মা ছিলেন নার্স। এটাও এখানে বলা প্রয়োজন বোধ করি যে, ওরা যদি খৃষ্টধর্ম না গ্রহন করতেন, তাহলে ওর বাবা মা কার্পেন্টার বা নার্স হয়তো হতে পারতেন না, এবং জীবনে অারও সামনের দিকে এগোতে পারতেন কিনা বিচারসাপেক্ষ। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে অাসে - “হে মোর দূর্ভাগা দেশ যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান”। অথচ, অাজও, অামাদের দূর্ভাগা দেশ তাদের অপমান করে অাসছে দিনের পর দিন - এবং অাজও রবীন্দ্রানুরাগীরা মঞ্চে বসে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইছেন, শুনছেন, হাত তালি দিচ্ছেন, বক্তৃতা দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথের মানবচিন্তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে, এবং সাঁওতাল গ্রামেরই পাস দিয়েই বড় গাড়ি চড়ে বাড়ি পৌঁছে অঘোর নিদ্রা দিচ্ছেন সারা রাত এবং সারা জীবন। “সন্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান”।
মাইকেল কিস্কু

মাইকেলের মা বিশ্বভারতীতে চাকরি পান হাসপাতালের নার্স হয়ে। তাঁদের ছেলেমেয়েরা পায় পাঠভবনে পড়ার অাহ্বান। মাইকেলের জীবনের সেটা হয় এক যুগান্তকারি সুযোগ এবং অনুপ্রেরণার উৎস। তার নিজেরই ভাষায় তার হাতের লাঠি কখন পরিনত হয় এক বাঁশিতে, যাতে ফুঁ দিলে সুর বের হয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর শান্তিনিকেতনের শিক্ষাপদ্ধতি শুধু মধ্যবিত্ত বাঙালীর চাকরি পাবার কল হিসেবে বানান নি, যদিও মধ্যবিত্ত বাঙালীরা বেশির ভাগ তাই অাশা করে শান্তিনিকেতন থেকে। সবার পিছে, সবার নীচে, সবহারাদের মাঝেও গুরুদেব ঈশ্বর খুঁজে পেয়েছিলেন, এবং তাদের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে মেলাবার পথ খুঁজেছিলেন। সেই রবীন্দ্রপ্রচেষ্টার হয়তো সর্বশ্রেষ্ঠ সপ্রাণ উধাহরণ হল অামাদের ছোটবেলার বন্ধু মাইকেল।

তান লী দা এবং মাইকেলকে নিয়ে কি তনু ছড়া লিখতে পারে? জানিনা ! একটা প্রশ্ন ওঠে - লিখলেই বা, পড়বে কে? তবে তার উত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন - “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না অাসে তবে একলা চলো রে”। অামরা সুতরাং ভাল মন্দ সাধ্য মত লিখতে ও বলতে পারি, উচিতও তাই করা। তবে, সেই ছড়া যদি ছন্দমধুর হয় এবং তার কথাতে যদি মর্মস্পর্শী সকরুণতা থাকে - তবে হয়তো একলা না চলে পথে গুটি কয়েক শ্রোতা বা সুহৃদও মিলবে।

এই হল অাজকের ব্লগব্লগানি।
অাপনারা কি বলেন?

এই ব্লগের নিচে অাপনারা সরাসরি মন্তব্য রাখতে পারেন, অালাদা করে email না লিখে। তাতে সবাই পড়তে পারে অাপনার কথা এবং চা দেখে হয়তো অনুপ্রাণিত হবে নিজেরাও লিখতে। বাংলা ফন্ট না থাকলে ইংরিজিতেই লিখুন, কিম্বা ইংরিজি হরফে বাংলা ভাষায় লিখুন। সবই চলবে।

ইতি তনু